পেনশন তুলতে গিয়ে চক্ষু চড়কগাছ! অ্যাকাউন্টে ৭৫৯ কোটি, ভিখারি থেকে কোটিপতি বৃদ্ধ!

পেনশনের সামান্য টাকা তুলতে গিয়ে এক বৃদ্ধের অ্যাকাউন্টে ধরা পড়ল ৭৫৯ কোটি টাকা! বিশ্বাসযোগ্য মনে না হলেও এটি কোনো গল্প নয়, বাস্তবেই এমন এক বিচিত্র ঘটনার সাক্ষী রইলেন বিহারের মুজফ্ফরপুর জেলার ৮২ বছর বয়সী কামেশ্বর মিশ্র। পেশায় কবি এবং সামাজিক সুরক্ষা পেনশন প্রকল্পের সুবিধাভোগী কামেশ্বরবাবু রবিবার তাঁর প্রতিবন্ধী ছেলেকে নিয়ে একটি কমন সার্ভিস সেন্টারে (সিএসসি) যান। সেখান থেকেই শুরু হয় এই অবিশ্বাস্য রহস্যের।

নিজের মাসিক পেনশনের টাকা তোলার পর, কৌতুহলবশত কামেশ্বরবাবু তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্স পরীক্ষা করেন। ব্যালেন্স শিট হাতে আসতেই তাঁর চক্ষু চড়কগাছ। ওই স্টেটমেন্টে দেখা যায়, তাঁর অ্যাকাউন্টে জমা রয়েছে ৭৫৯ কোটি ৬৯ লক্ষ ৫১ হাজার ৯৫১ টাকা। কেবল নিজের অ্যাকাউন্টই নয়, একইসঙ্গে তাঁর প্রতিবন্ধী ছেলের অ্যাকাউন্টটিও পরীক্ষা করা হলে দেখা যায় সেখানেও জমা রয়েছে সমপরিমাণ বিপুল অর্থ। দুই অ্যাকাউন্ট মিলিয়ে মোট অর্থের পরিমাণ ১৫০০ কোটি টাকারও বেশি!

এত বিপুল পরিমাণ অর্থ দেখে হতবাক কামেশ্বর মিশ্র বলেন, “আমি দরিদ্র মানুষ, পেনশন প্রকল্পের ওপর নির্ভর করে চলি। আমার অ্যাকাউন্টে এত টাকা কীভাবে এল, তা আমার ধারণার বাইরে।” বিষয়টি নিয়ে আতঙ্কিত কামেশ্বরবাবু সঙ্গে সঙ্গে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন। তাঁর দাবি, এই বিপুল অঙ্কের টাকা কোথা থেকে এল, তা অবিলম্বে তদন্ত করে দেখা হোক। তিনি মনে করছেন, এটি হয়তো ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার কোনো বড় ভুল বা প্রযুক্তিগত ত্রুটি।

প্রাথমিক তদন্তে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, ব্যাঙ্কিং সার্ভারে কোনো বড় ধরনের যান্ত্রিক গলদ বা সফটওয়্যার সংক্রান্ত ভুলের কারণেই অ্যাকাউন্টে এই অস্বাভাবিক ব্যালেন্স দেখা যাচ্ছে। কিন্তু কীভাবে এমন ভুল সম্ভব, তা নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন। যদিও ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ বা স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। বিষয়টি জানাজানি হতেই এলাকায় রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে। বৃদ্ধের পরিবার এখন উদ্বেগের প্রহর গুনছে—এটি কি ব্যাঙ্কের ভুলে ঘটা কোনো প্রযুক্তিগত ত্রুটি, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো রহস্য? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত ব্যালেন্স যাচাইয়ের প্রক্রিয়া চলছে বলে খবর।