সার কিনতে এবার লাগবে সরকারি অনুমোদন! কালোবাজারি রুখতে নতুন ফতোয়া কৃষি দপ্তরের

ধান চাষের মরসুমে ইউরিয়া সার পাওয়া নিয়ে রীতিমতো নাজেহাল দশা কৃষকদের। কৃষি দপ্তরের নতুন এক নিয়ম জারি হওয়ার পর থেকে সার সংগ্রহ করা কৃষকদের কাছে এখন এক কঠিন অগ্নিপরীক্ষার সমান। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, এখন থেকে ইউরিয়া সার কিনতে হলে কৃষি সমন্বয়কারী বা কৃষি পরামর্শদাতার থেকে আগাম অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক। এই জটিল প্রক্রিয়ার ফলে একদিকে যেমন ফসলের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে, তেমনই অন্যদিকে প্রশাসনিক অফিসের চক্কর কাটতে কাটতে নাজেহাল হতে হচ্ছে চাষিদের।

কৃষি দপ্তরের দাবি, এই কঠোর নিয়ম চালুর মূল উদ্দেশ্য হলো ইউরিয়ার কালোবাজারি ও অপ্রয়োজনীয় মজুতদারি বন্ধ করা। দপ্তরের বক্তব্য, চাষিরা আর যখন খুশি বা নিজেদের ইচ্ছামতো ইউরিয়া কিনতে পারবেন না। জমির প্রকৃত প্রয়োজন এবং বৈজ্ঞানিক মানদণ্ড অনুযায়ী সারের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো চাষি যদি এক বস্তার বেশি ইউরিয়া নিতে চান, তবে তাঁকে জমির বৈধ নথিপত্র জমা দিতে হবে। সেই নথি যাচাই করে তবেই সার পাওয়ার অনুমতি মিলবে।

তবে কৃষকদের অভিযোগ, চাষের এই ব্যস্ত সময়ে দপ্তরে গিয়ে নথিপত্র জমা দেওয়া ও অনুমোদনের অপেক্ষা করা অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ। তাঁদের আশঙ্কা, অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় দেরি হলে ধান রোপণের সঠিক সময় হাতছাড়া হবে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে ফসলের ওপর। সবচেয়ে বড় সংকটে পড়েছেন বর্গাচাষি বা ঠিকা চাষিরা। জমির মালিকানা স্বত্বের নথি অধিকাংশ বর্গাচাষির কাছে না থাকায়, নতুন নিয়মে তাঁদের জন্য ইউরিয়া সংগ্রহ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাঁদের মতে, বাধ্য হয়েই হয়তো চড়া দামে কালোবাজারি থেকে সার কিনতে হবে, নতুবা চাষাবাদ করাই বন্ধ করে দিতে হবে।

সরকারি আধিকারিকদের যুক্তি, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বা কৃষক অতিরিক্ত সার কিনে মজুত করেন এবং পরে তা চড়া দামে বিক্রি করেন। মাটির উর্বরতা রক্ষা এবং সারের অপচয় রোধেই এই কড়াকড়ি। বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে সারের ব্যবহার মাটির স্বাস্থ্য ভালো রাখবে বলেও দাবি করা হচ্ছে। কিন্তু কৃষকদের পাল্টা যুক্তি, কালোবাজারি রোধের নামে প্রকৃত চাষিদের কেন হয়রানির শিকার হতে হবে? তাঁদের দাবি, অনুমোদনের এই জটিল প্রক্রিয়াকে সহজতর করা হোক। বিশেষ করে বর্গাচাষিদের জন্য পৃথক ও নমনীয় ব্যবস্থার দাবি তুলেছেন তাঁরা, যাতে মরসুমের শুরুতে ইউরিয়া সার নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা তৈরি না হয়। এখন দেখার, কৃষি দপ্তর কৃষকদের এই সমস্যার সমাধানে নমনীয় কোনো পদক্ষেপ নেয় কি না।