৯৬ ঘণ্টা ডিউটি নিয়ে তুলকালাম! স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নয়া ব্যাখ্যায় কি সন্তুষ্ট চিকিৎসক মহল?

সরকারি চিকিৎসকদের ডিউটি আওয়ার্স এবং ‘৯৬ ঘণ্টা’ স্টেশনে থাকার নির্দেশিকা নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে রাজ্যের স্বাস্থ্যমহলে যে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তার প্রেক্ষিতে এবার সরাসরি মুখ খুললেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা: শ্বারদ্বত মুখোপাধ্যায়।

কী বললেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী? বিতর্কিত ‘৯৬ ঘণ্টা ডিউটি’ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী  এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট জানান, “৯৬ ঘণ্টা ডিউটির কথা বলা হয়নি। ৯৬ ঘণ্টা স্টেশনে থাকতে বলা হয়েছে।” তাঁর ব্যাখ্যা, চিকিৎসকরা যাতে জরুরি প্রয়োজনে রোগীর পাশে থাকতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই এই নির্দেশ। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা অমানবিক নই। অনেকেই দূরবর্তী স্থানে (যেমন কোচবিহার) পোস্টিং পেয়ে কলকাতায় থাকেন। ২-৩ রাত স্টেশনে থাকার কথা বলা হয়েছে যাতে তাঁরা প্রয়োজনে দ্রুত চিকিৎসা দিতে পারেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় ২ থেকে আড়াই দিনের মাথায় তাঁরা ফিরে আসছেন।”

প্রাইভেট প্র্যাকটিস নিয়ে কড়া বার্তা রবিবার এক সম্মেলনের মঞ্চ থেকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরকারি চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলেন। তিনি অভিযোগ করেন, অনেক শিক্ষক-চিকিৎসক সরকারি হাসপাতালের চেয়ে ব্যক্তিগত নার্সিংহোমে বেশি সময় কাটাচ্ছেন, যার ফলে গরিব রোগীদের প্রাইভেট চেম্বারে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে। তিনি মনে করিয়ে দেন, নন-প্র্যাকটিসিং অ্যালাওয়েন্স (NPA) না নিলে প্রাইভেট প্র্যাকটিসের অধিকার থাকলেও, তা অবশ্যই ডিউটি আওয়ার্সের বাইরে হতে হবে।

চিকিৎসক সংগঠনের প্রতিক্রিয়া স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই কড়া বার্তার পরিপ্রেক্ষিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গিয়েছে বিভিন্ন চিকিৎসক সংগঠনের কাছ থেকে:

  • আইএমএ (IMA) সম্পাদক ডা: শান্তনু সেন: তিনি জানান, অনেক চিকিৎসক যে অনিয়মিত, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে কাজ করা প্রয়োজন, তবে চিকিৎসকদের ওপর অতিরিক্ত কাজের বোঝা চাপানো উচিত নয়।

  • এনএমও (NMO) সম্পাদক ডা: অর্ণপ পাল: তিনি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর উদ্যোগকে সাধুবাদ জানালেও ‘৯৬ ঘণ্টা’র বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে পুনর্বিবেচনা করার আবেদন জানিয়েছেন।

  • অ্যাসোসিয়েশন অব হেলথ সার্ভিস ডক্টরস (AHSD) সম্পাদক ডা: উৎপল বন্দ্যোপাধ্যায়: তিনি জানান, বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে অনেকে বাড়ি থেকে অনেক দূরে পোস্টিং পেয়েছেন। পোস্টিং সংক্রান্ত সমস্যা মিটিয়ে দিলে এই কর্মসংস্কৃতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঠিক হয়ে যাবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই স্পষ্টীকরণের পর বিতর্ক কিছুটা থিতু হবে কি না, তা এখন দেখার বিষয়। তবে সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবাকে ঢেলে সাজাতে এবং রোগীদের ভোগান্তি কমাতে সরকার যে কঠোর অবস্থানে অনড়, তা এদিনের বক্তব্যে স্পষ্ট।