আকাশগঙ্গায় ভারত-নিউজিল্যান্ডের সেতুবন্ধন! মোদীর কথায় মুগ্ধ বিশ্ব, মাটারিকি নিয়ে কী বললেন প্রধানমন্ত্রী?

নিউজিল্যান্ডের মাওরি নববর্ষ ‘মাটারিকি’ উৎসবের আবহে এক অনন্য কূটনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের সাক্ষী থাকল অকল্যান্ড। শনিবার নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সনের আয়োজিত গালা লাঞ্চে যোগ দিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দুই দেশের সম্পর্কের এক গভীর আধ্যাত্মিক যোগসূত্র তুলে ধরলেন। প্রধানমন্ত্রী মোদী এই সফরে ভারতের প্রাচীন ঐতিহ্য ও নিউজিল্যান্ডের মাওরি সংস্কৃতির মধ্যে এক দারুণ মিল খুঁজে পেয়েছেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মোদী মাওরি সম্প্রদায়কে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানানোর সময় বলেন, “মাটারিকি উৎসবের এই শুভলগ্নে আমি আপনাদের সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। নিউজিল্যান্ডের আকাশে যে নক্ষত্রপুঞ্জ ‘মাটারিকি’ নামে পরিচিত, তাকেই ভারতে প্রাচীনকাল থেকে ‘কৃত্তিকা’ নক্ষত্র হিসেবে চেনা ও পূজা করা হয়।” মোদীর মতে, এই নক্ষত্রপুঞ্জ দুটি ভিন্ন ভৌগোলিক অবস্থানের মানুষকে এক অদৃশ্য সুতোয় বেঁধে রেখেছে। তিনি আশাপ্রকাশ করেন যে, মাটারিকির এই বছর ভারত ও নিউজিল্যান্ডের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে ওই তারার মতোই উজ্জ্বল ও পথপ্রদর্শক করে তুলবে।
‘মাটারিকি’ আসলে আকাশের একটি উজ্জ্বল তারা গুচ্ছ, যা নিউজিল্যান্ডে শীতের মাঝামাঝি সময়ে ভোরের আকাশে দৃশ্যমান হয়। সারা বিশ্বে এটি পরিচিত হলেও নিউজিল্যান্ডের আদিবাসী মাওরি সংস্কৃতির কাছে এটি নববর্ষ এবং নতুন শুরুর প্রতীক। ২০২৬ সালে ৮ থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত এই উৎসব পালিত হচ্ছে, যার জন্য আগামী ১০ জুলাই নিউজিল্যান্ডে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সনও মোদীর সফর এবং এই উৎসবের সমাপতনকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন। অকল্যান্ডে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে স্বাগত জানিয়ে লাক্সন বলেন, “আপনার সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন আমরা আমাদের নববর্ষ মাটারিকি উদযাপন করছি। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই একই নক্ষত্রপুঞ্জ আপনাদের ঐতিহ্যে কৃত্তিকা নামে পরিচিত। নাম ভিন্ন হলেও আমাদের লক্ষ্য একই—সমৃদ্ধি এবং নতুন শুরুর প্রত্যাশা।”
এই আয়োজনে প্রধানমন্ত্রী লাক্সন অকল্যান্ডের আদিবাসী মাওরি জনগোষ্ঠী ‘নাতি হোয়াটুয়া ওরকি’-র প্রতি বিশেষ সম্মান প্রদর্শন করেন। তিনি অকল্যান্ড শহরের রূপরেখা তৈরির ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকার কথা স্মরণ করেন। উল্লেখ্য, ১৮৪০ সালে ‘নাতি হোয়াটুয়া’ গোত্রের প্রধান আপিহাই তে কাওয়াউ গভর্নর উইলিয়াম হবসনকে নতুন উপনিবেশ স্থাপনের জন্য অকল্যান্ডের ৩,০০০ একর জমি উপহার দিয়েছিলেন। সেই ঐতিহাসিক পটভূমিতে দাঁড়িয়ে মোদীর এই সফর দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ককে ‘স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’-এর স্তরে উন্নীত করার পথ প্রশস্ত করেছে। ভারত ও নিউজিল্যান্ডের এই সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন আগামী দিনে দুই দেশের কূটনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল।