শিলিগুড়ি-সিকিম সংযোগে বড় বিপত্তি, ১০ নম্বর জাতীয় সড়কে তিন দিনের কড়াকড়ি, জানুন নতুন রুট ম্যাপ!

পাহাড়ের লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের ওপর নির্ভর করে সিকিম ও কালিম্পংয়ের জনজীবন। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে সেই রাস্তার ২০ মাইল এলাকার বারদাং অংশটি বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এটিটিসি (ATTC) কলেজের নিকটবর্তী ৬০.১৮০ কিলোমিটার চিহ্নিত ওই অংশে সম্প্রতি ধস নামার ফলে রাস্তার অবস্থা বেহাল হয়ে পড়েছে। নিত্যযাত্রী, পর্যটক এবং পণ্যবাহী যানবাহনের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে ন্যাশনাল হাইওয়েস অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেড (NHIDCL) এবং হাইওয়ে অ্যাডমিনিস্ট্রেটর জরুরি ভিত্তিতে রাস্তা মেরামতির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, আগামী ১১ জুলাই (শনিবার), ১২ জুলাই (রবিবার) এবং ১৩ জুলাই (সোমবার)—এই তিনদিন টানা পাঁচ ঘণ্টা করে ওই নির্দিষ্ট অংশে সমস্ত ধরনের যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। সকাল ৫টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত এই পাঁচ ঘণ্টা মেরামত কাজের জন্য সড়কটি সম্পূর্ণ স্তব্ধ রাখা হবে। এই সময়ে রাস্তার কাজের তীব্রতা এবং সম্ভাব্য দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে প্রশাসন কঠোর নজরদারি চালাবে।
তবে যাত্রীদের সুবিধার্থে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বেশ কিছু বিকল্প পথের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, বড় এবং ছোট—উভয় ধরনের যানবাহনই রংপো, রোরোথাং, পাকইয়ং এবং রানিপুল হয়ে এনএইচ-৭১৭এ (NH-717A) করিডোর ব্যবহার করতে পারবে। হালকা মোটর ভেহিকেলস বা ছোট গাড়ির চালকরা সিংতাম এবং রংপোর মধ্যে যাতায়াতের জন্য দুগা-পেন্দাম রোডটি বেছে নিতে পারবেন।
কালিম্পংয়ের জেলাশাসক কুহুক ভূষণ জানিয়েছেন, বর্ষার মরশুমে এই রাস্তাটি সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। কোনো বড় ধরনের বিপর্যয় এড়াতেই এই জরুরি মেরামতের কাজ শুরু করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, বিকল্প রুটগুলিতে অতিরিক্ত গাড়ির চাপের কারণে যেন যানজট তৈরি না হয়, সেজন্য বিশেষ ট্রাফিক ও পুলিশ বাহিনী মোতায়েন থাকবে। জেলাশাসক পর্যটক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের অনুরোধ করেছেন, এই সময়সীমা মাথায় রেখে তারা যেন আগেভাগেই ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন এবং ট্রাফিক পুলিশকে পূর্ণ সহযোগিতা করেন। পাহাড়ি পথে যেকোনো প্রকার অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে স্থানীয় প্রশাসন সদা তৎপর রয়েছে।