ইনস্টাগ্রামে ভয়াবহ শিশু পর্নোগ্রাফির বিজ্ঞাপন! কড়া ব্যবস্থা নিল কেন্দ্র, তলব মেটাকে

ইনস্টাগ্রামের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মে শিশু পর্নোগ্রাফি প্রচারের মতো ভয়াবহ অভিযোগ সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসল কেন্দ্র সরকার। কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সরাসরি নির্দেশ দিয়েছেন মেটা (Meta)-কে তলব করার জন্য। এই ঘটনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং বিজ্ঞাপনী ফিল্টারিং নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে সংস্থাটি।

কী ঘটেছিল?

বিবিসি-র এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, ইনস্টাগ্রামে এমন কিছু অর্থপ্রদত্ত বিজ্ঞাপন (Paid Ads) চালানো হচ্ছিল, যা ব্যবহারকারীদের সরাসরি পর্নোগ্রাফিক কন্টেন্ট বিক্রি করা টেলিগ্রাম চ্যানেলে নিয়ে যাচ্ছিল। অবাক করা বিষয় হলো, এই ভয়াবহ কন্টেন্টগুলো মাত্র ৯৯ টাকায় পাওয়া যাচ্ছিল।

কীভাবে পার পেয়ে গেল এই বিজ্ঞাপনগুলো?

ইনস্টাগ্রামের নিজস্ব একটি বিজ্ঞাপন পর্যালোচনা প্রক্রিয়া রয়েছে, যেখানে কোনো বিজ্ঞাপন লাইভ হওয়ার আগে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। অথচ, এমন আপত্তিজনক বিজ্ঞাপন কীভাবে প্ল্যাটফর্মে জায়গা পেল, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে। আরও চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, বিবিসি যখন এই বিষয়ে প্রথম অভিযোগ জানায়, তখন ইনস্টাগ্রামের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে— বিজ্ঞাপনটি তাদের কমিউনিটি নির্দেশিকা লঙ্ঘন করেনি! পরে চাপের মুখে প্রায় ৩০টি বিজ্ঞাপন শনাক্ত করে সেগুলো অপসারণ করা হয়।

সরকারের কঠোর অবস্থান

ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় (MeitY) এখন মেটার কাছে কড়া জবাব চেয়েছে:

  • কী ধরনের প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে এই বিজ্ঞাপনগুলো অনুমোদন পেল?

  • ভবিষ্যতেও যাতে এমনটা না ঘটে, তার জন্য মেটা সুনির্দিষ্ট কী পদক্ষেপ নিয়েছে?

  • কেন প্রথমবার অভিযোগ পাওয়ার পরেও সংস্থাটি তা গুরুত্ব দেয়নি?

মেটার সাফাই

বিতর্ক বাড়ার পর মেটার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞাপনগুলো সরিয়ে ফেলেছে এবং বিজ্ঞাপনদাতাদের অ্যাকাউন্ট স্থগিত করেছে। এছাড়া টেলিগ্রাম চ্যানেলের লিংকসহ বেশ কিছু ইউআরএল ব্লক করা হয়েছে। তবে এই ঘটনায় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোর ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা এবং কন্টেন্ট মডারেশন নিয়ে ফের বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হলো।