পুর-আইন কি শিকেয়? ভাটপাড়ায় প্রশাসকের উপরে বসলেন ‘চেয়ারম্যান’, বিতর্ক তুঙ্গে

ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভাটপাড়া পুরসভায় এখন চূড়ান্ত প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা। পুর-আইনকে কার্যত উপেক্ষা করে প্রশাসকের অধীনে থাকা পুরসভায় আচমকাই ‘চেয়ারম্যান’ নিয়োগ করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে কাউন্সিলর হিমাংশু সরকার এক সাংবাদিক বৈঠক করে নিজেকে পুর-বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করায় রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গেছে।
কীভাবে এই নাটকীয় মোড়? গত মে মাসে বিধানসভা নির্বাচনের পর ভাটপাড়া পুরসভার ৩৩ জন কাউন্সিলরের মধ্যে ২৮ জন পদত্যাগ করেছিলেন, যার জেরে পুরপ্রধান ও উপ-পুরপ্রধানকেও সরতে হয়। এরপরই রাজ্য সরকার মহকুমা শাসকের নির্দেশে পুরসভার নির্বাহী আধিকারিক সুব্রতকুমার বিশ্বাসকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ করে। প্রশাসনিক কাজ তখন থেকেই তাঁর নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিন্তু গত ৩০ জুন প্রশাসক আচমকা পাঁচজনের একটি ‘পুর-বোর্ড’ গঠন করে দেন, যার চেয়ারম্যান করা হয় হিমাংশু সরকারকে।
প্রশ্নের মুখে বৈধতা: প্রশাসকের নিয়ন্ত্রণে থাকা পুরসভায় নির্বাচনের আগে কি আদৌ কোনো চেয়ারম্যান নিয়োগ করা যায়? এই প্রশ্নের উত্তরে নতুন চেয়ারম্যান হিমাংশু সরকার বলেন, “আমাকে প্রশাসক নিজেই নিয়োগপত্র দিয়েছেন। সেখানে চেয়ারম্যান হিসেবে আমার নাম লেখা রয়েছে। পুর-আইন আমি জানি না, আমি শুধু জানি আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।”
প্রশাসকের রহস্যময় নীরবতা: পুরসভার অন্দরের খবর অনুযায়ী, নবগঠিত পাঁচজনের এই বোর্ডে হিমাংশু সরকারের পরেই রয়েছেন প্রশাসক সুব্রতকুমার বিশ্বাস। এই নিয়োগপত্র দেওয়ার বিষয়ে প্রশাসককে প্রশ্ন করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। তিনি স্পষ্ট কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। যদিও বিরোধীদের দাবি, এই নিয়োগ সম্পূর্ণ বেআইনি এবং পুরসভার দুর্নীতি ঢাকা দিতেই তড়িঘড়ি এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।
পুরসভার মোট ৩৩ জন কাউন্সিলরের মধ্যে বেশিরভাগই এখন পদে নেই, এমন পরিস্থিতিতে এই ‘চেয়ারম্যান’ পদের আইনি বৈধতা নিয়ে আইনজীবী মহলেও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। রাজ্য প্রশাসন বা পুর-বিভাগের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।