আদিবাসীদের ছাড় দিয়ে রাজ্যে ইউনিফর্ম সিভিল কোড, আগস্টেই বিধানসভায় পেশের পরিকল্পনা

রাজ্য রাজনীতিতে বড়সড় রাজনৈতিক মোড়। পশ্চিমবঙ্গে ‘ইউনিফর্ম সিভিল কোড’ (UCC) বা অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করার পথে এক ধাপ এগিয়ে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি ঘোষণা করেছেন, আগামী ২ জুলাই মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই বিলের খসড়া পেশ করা হবে।
কী থাকছে বিলের খসড়ায়? মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই বিলের রূপরেখা তৈরির ক্ষেত্রে গুজরাট, অসম ও উত্তরাখণ্ডের মডেল অনুসরণ করা হয়েছে। নতুন এই আইনের লক্ষ্য হলো বিবাহ, বিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার এবং দত্তক নেওয়ার ক্ষেত্রে রাজ্যে একটি অভিন্ন নিয়ম চালু করা, যা নারী অধিকার ও সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই আইনের আওতার বাইরে রাখা হচ্ছে আদিবাসী সম্প্রদায়কে। তাঁদের দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও অধিকার রক্ষার খাতিরেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। একটি বিশেষ কমিটি এই বিষয়ে কাজ করছে, যাদের আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগস্ট মাসেই বিধানসভায় বিলটি পেশ করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
রাজনৈতিক চাপানউতোর: মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পরেই রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চর্চা।
সরকারি অবস্থান: সরকার মনে করছে, এটি রাজ্যের সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠার পথে একটি সাহসী পদক্ষেপ।
তৃণমূলের প্রতিবাদ: বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস এই সিদ্ধান্তকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকারে হস্তক্ষেপ বলে অভিহিত করেছে। তাদের দাবি, এই বিল রাজ্যের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে পারে এবং তারা এর তীব্র বিরোধিতা করবে।
বিজেপির সমর্থন: অন্যদিকে, বিজেপি নেতৃত্ব এই পদক্ষেপকে সংবিধানের মূল আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে স্বাগত জানিয়েছে।
সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই বিল নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। একদিকে যেমন একটি কেন্দ্রীয় আইন নিয়ে মানুষের কৌতূহল রয়েছে, তেমনই রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এই ইস্যুতে তীব্র লড়াইয়ের ইঙ্গিত স্পষ্ট। এখন ২ জুলাই মন্ত্রিসভার বৈঠকের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজ্য।