স্কুলে ‘বেআইনি’ উর্দু শিক্ষা! পড়ুয়াদের বয়ানে তোলপাড়, এফআইআর দায়ের ৩ শিক্ষকের বিরুদ্ধে

সিলেবাস বহির্ভূত উর্দু শিক্ষা এবং স্কুলে জোর করে নমাজ শেখানো—এই গুরুতর অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠল তেলঙ্গানার নিজামাবাদ। গত ২৭ জুন ঘটনাটি জানাজানি হতেই স্কুলের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন বিজেপি এবং বিভিন্ন হিন্দু সংগঠনের কর্মীরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে আসরে নামতে হয়েছে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনকে।
কী অভিযোগ? নিজামাবাদের আরমুরের ওই বেসরকারি স্কুলের পড়ুয়াদের বয়ান ঘিরে এই বিতর্কের সূত্রপাত। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া কয়েকটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, খুদে পড়ুয়ারা বলছে—ক্লাসে নিয়মিত উর্দু পড়ানো হতো এবং খাতায় তা নোট করতে বাধ্য করা হতো। অভিযোগ, হিন্দি ক্লাসের সময়েই এই ধরনের পাঠ দেওয়া হচ্ছিল এবং পড়ুয়াদের নমাজ শিক্ষাও দেওয়া হচ্ছিল।
প্রশাসনের পদক্ষেপ: বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই তোলপাড় শুরু হয়। সরকারি আধিকারিকদের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, স্কুলের ‘ভবিষ্য দর্শিনী’ (প্রাথমিক বিভাগ) শাখায় কোনো সরকারি অনুমতি ছাড়াই উর্দু পড়ানো হচ্ছিল। বিষয়টি জেনেও স্কুলের প্রিন্সিপাল এবং করেসপন্ডেন্ট তা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ।
ইতিমধ্যেই স্কুলের করেসপন্ডেন্ট, প্রিন্সিপাল এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে পুলিশ। পাশাপাশি স্কুল কর্তৃপক্ষের পাল্টা অভিযোগের ভিত্তিতে, স্কুলে জোর করে প্রবেশ ও মারধরের অভিযোগে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধেও একটি মামলা রুজু করা হয়েছে।
শিক্ষা দপ্তরের তদন্ত: গোটা ঘটনার ওপর কড়া নজর রাখছে রাজ্য শিক্ষা দপ্তর। সরকারি নিয়মের তোয়াক্কা না করে কীভাবে এই ধরনের সিলেবাস বহির্ভূত পাঠদান চলছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বজায় রয়েছে এবং পুলিশি টহলদারি বাড়ানো হয়েছে।