ভাগ্যের চাকা ঘুরল আদিবাসী পরিবারের! পান্নায় মিলল ১১.১৯ ক্যারেটের বিশাল হীরা

মাটির তলায় লুকিয়ে থাকা সম্পদের সন্ধানে পান্না জেলা আবারও খবরের শিরোনামে। এবার দ্বিতীয়বারের মতো ভাগ্য খুলল মধ্যপ্রদেশের এক দরিদ্র আদিবাসী পরিবারের। গত দুই মাসের হাড়ভাঙা খাটুনির পর সোমবার, ২৯ জুন, তারা খুঁজে পেলেন একটি ১১.১৯ ক্যারেটের উজ্জ্বল হীরা, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা।
দুই বছরে দ্বিতীয় সাফল্য আদিবাসী শ্রমিক রাকেশ গৌর এবং তাঁর পরিবারের জন্য এই ঘটনা যেন কোনো রূপকথার গল্পের মতো। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, গত ২০২৪ সালেও তাঁরাই একটি ১৯.২২ ক্যারেটের বিশাল হীরা খুঁজে পেয়েছিলেন, যা নিলামে ৯৩ লক্ষ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। পরপর দুবার এমন সাফল্যের নজির এই অঞ্চলে বিরল।
কীভাবে পেলেন এই হীরা? চলতি বছরের এপ্রিল মাসে রাকেশ গৌর তাঁর ভাই ও আত্মীয়দের সঙ্গে আহিরগাওয়ান এলাকায় একটি জমি ইজারা নিয়ে খনি খনন শুরু করেন। দুই মাস ধরে প্রচণ্ড গরম ও কষ্টকর পরিস্থিতিতে কাজ চালানোর পর সোমবার তাঁদের হাতে আসে এই মূল্যবান রত্নটি। নিয়ম অনুযায়ী, তাঁরা দ্রুত হীরাটি জেলা হীরা দপ্তরে জমা দিয়েছেন। সরকারি নিলামের পর রয়্যালটি বাদ দিয়ে বাকি টাকা এই পরিবারটির হাতে তুলে দেওয়া হবে।
পরিশ্রমে বিশ্বাসী রাকেশ এত বড় অংকের টাকা পাওয়ার পরেও রাকেশ গৌর বিন্দুমাত্র অলস হতে নারাজ। তিনি জানিয়েছেন, এবারের পাওয়া টাকা দিয়ে তিনি আরও নতুন খনি খনন করবেন এবং নিজের ভাগ্য পরীক্ষা চালিয়ে যাবেন। তাঁদের এই ধারাবাহিক সাফল্য স্থানীয় অন্যান্য শ্রমিকদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহের সঞ্চার করেছে।
পান্না জেলার এই এলাকাটি যেন আজ সাধারণ শ্রমিকদের জন্য আশার আলো হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকের মতে, এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল যে, পান্নার প্রতিটি মাটির কণাতেই লুকিয়ে রয়েছে অভাবনীয় সম্পদ।