তৃণমূলের অন্দরে চরম বিভেদ! বিধানসভায় মুখ খুলতে দেওয়া হলো না কুণাল ঘোষকে?

বিধানসভার অন্দরে ফের প্রকাশ্যে চলে এল শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের গভীর অন্তর্দ্বন্দ্ব। ‘গুন্ডাদমন বিল’-এর ওপর আলোচনার সময় বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষকে পরিকল্পিতভাবে বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে ঘিরে শাসকদলের দুই শিবিরের দ্বন্দ্ব কার্যত দিনের আলোর মতো পরিষ্কার হয়ে গেল।

ঠিক কী ঘটেছিল বিধানসভায়? বিধানসভার বর্তমান সমীকরণ অনুযায়ী, তৃণমূল বিধায়কদের একটি বড় অংশ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রয়েছে ‘কালীঘাট তৃণমূল’ শিবির। সূত্রের খবর, দলের পক্ষ থেকে বক্তা হিসেবে কুণাল ঘোষের নাম প্রস্তাব করা হলেও, বিরোধী দলের মুখ্যসচেতক মুহা আখরুজ্জামান সেই তালিকায় কাটছাঁট করে কুণালের বদলে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম যুক্ত করেন।

বিধানসভার অন্দরে নাটকীয় মুহূর্ত: গুন্ডাদমন বিলের ওপর আলোচনার সময় শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় মাইক হাতে নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “দলের তরফ থেকে কুণাল ঘোষের নাম দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তালিকায় তাঁর বদলে আমার নাম বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটা মেনে নেওয়া যায় না। আমি অধ্যক্ষকে অনুরোধ করছি, আমার নির্ধারিত সময়টুকু কুণাল ঘোষকে দেওয়া হোক।”

শোভনদেবের এই মন্তব্যের পরই শাসকদলের ঋতব্রত-পন্থী বিধায়করা হইচই শুরু করেন। শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় পালটা সওয়াল করে বলেন, “বিরোধী দলের মুখ্যসচেতক যার নাম দিয়েছেন, তাঁকেই বলতে হবে। অধ্যক্ষের অনুমতি নিয়ে এভাবে বক্তা পরিবর্তন করা যায় না।”

প্রতিবাদে চুপ শোভনদেব: নিজের দাবিতে অনড় থাকলেও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় আর বক্তব্য রাখেননি। তিনি প্রতিবাদ স্বরূপ নিজের আসনে বসে পড়েন। ফলে, কুণাল ঘোষ সংশোধনীর প্রস্তাব দিলেও বিলের ওপর নিজের বক্তব্য রাখার সুযোগ পাননি।

উল্লেখ্য, আলোচনার শুরুতে কুণাল ঘোষ এই বিলটিকে ‘রাওলাট আইন’-এর সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, দলের অভ্যন্তরীণ বিবাদ যে বিধানসভার ফ্লোর পর্যন্ত গড়িয়েছে, আজকের এই ঘটনা তারই জলজ্যান্ত প্রমাণ।