তাপপ্রবাহে স্কুলে শিশুর প্রাণ সংশয়? উত্তরপ্রদেশ সরকারের নতুন নির্দেশিকায় বড় পদক্ষেপ!

প্রচণ্ড দাবদাহ এবং তীব্র তাপপ্রবাহের হাত থেকে কচিকাঁচাদের রক্ষা করতে ২০২৬ সালের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কঠোর নির্দেশিকা জারি করল উত্তরপ্রদেশ সরকার। ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা শিশুদের স্বাস্থ্য এবং শিক্ষাজীবনের ওপর যে বিরূপ প্রভাব ফেলছে, তা মাথায় রেখেই রাজ্য প্রশাসন স্কুলগুলির জন্য এক বিস্তারিত ‘হিট অ্যাকশন প্ল্যান’ বা তাপ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। এই নির্দেশিকার মূল লক্ষ্য হলো তাপমাত্রা বাড়লেও যাতে পড়াশোনায় ব্যাঘাত না ঘটে এবং শিশুরা সুরক্ষিত থাকে।
নতুন এই নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতিটি স্কুলকে নিজস্ব তাপপ্রবাহ মোকাবিলা পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। এই কর্মযজ্ঞ তদারকির জন্য প্রতিটি বিদ্যালয়ে একজন ‘স্বাস্থ্য নোডাল শিক্ষক’ নিয়োগ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। স্কুলের প্রবেশপথ বা গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তাপপ্রবাহ থেকে বাঁচার উপায়, জরুরি হেল্পলাইন নম্বর এবং সুরক্ষা সংক্রান্ত পোস্টার টাঙিয়ে দিতে বলা হয়েছে। প্রতিটি স্কুলে বিশুদ্ধ পানীয় জল, প্রাথমিক চিকিৎসা কিট, ওআরএস (ORS), ডিজিটাল থার্মোমিটার এবং ১০৮ অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবার সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া, শ্রেণীকক্ষে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা, ফ্যান এবং স্কুলের আঙিনায় ছায়াযুক্ত স্থান ও সবুজের পরিমাণ বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে সকাল ১০টার পর থেকে কোনো ধরনের বহিরাঙ্গন কার্যকলাপ—যেমন প্রার্থনা সভা বা খেলাধুলা—বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর থেকে কোনো এলাকায় ‘কমলা’ বা ‘লাল’ সতর্কতা জারি করা হলে তৎক্ষণাৎ সমস্ত শারীরিক পরিশ্রমমূলক কাজ বন্ধ করতে হবে। শিক্ষকরা নিয়মিত পড়ুয়াদের প্রচুর জল পান করা, হালকা রঙের সুতির পোশাক পরা, টুপি বা ছাতা ব্যবহার এবং জলীয় ফল যেমন তরমুজ, শসা বা খড়মুজ খাওয়ার পরামর্শ দেবেন। ক্যাফেইনযুক্ত বা অতিরিক্ত মিষ্টি পানীয় এড়িয়ে চলার কথাও বলা হয়েছে।
শিক্ষকদের আরও সজাগ থাকতে হবে শিশুদের শারীরিক লক্ষণের ওপর। অতিরিক্ত ঘাম, মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা, বমি ভাব বা জ্ঞান হারানোর মতো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে শিশুকে ছায়াযুক্ত স্থানে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে হবে। প্রয়োজনে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স বা নিকটতম স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে।
সরকার অভিভাবক এবং বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উভয়কেই দায়িত্বশীল হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। অভিভাবকদের নিশ্চিত করতে হবে যে শিশুরা যেন পর্যাপ্ত জল নিয়ে স্কুলে যায় এবং শরীর খারাপ থাকলে তাদের স্কুলে না পাঠায়। স্কুলগুলিকে তাপপ্রবাহ সংক্রান্ত ঘটনার রেকর্ড রাখা এবং নিয়মিত ব্যবধানে সচেতনতামূলক মহড়া পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। প্রশাসনের এই উদ্যোগের ফলে তীব্র গরমের হাত থেকে আগামীর ভবিষ্যৎকে সুরক্ষিত করার এক মজবুত ভিত্তি তৈরি হলো।