ভূত ছাড়ানোর নামে বড় ভাইকে কুপিয়ে হত্যা! বিহারের পূর্ণিয়ায় কুসংস্কারের বলি যুবক

কুসংস্কারের অন্ধকার যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তার ফের এক নৃশংস নিদর্শন দেখল বিহারের পূর্ণিয়া জেলা। বানমানখি থানা এলাকার মাখানাহা গ্রামে ভূত ছাড়ানোর নামে দুই ছোট ভাইয়ের হাতে বড় ভাইকে খুনের ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে গোটা এলাকায়। মৃতের নাম সুশীল কুমার শর্মা। স্থানীয় সূত্রে খবর, সুশীলবাবুর ভাই উকিল শর্মা প্রায় ১২ বছর পাঞ্জাবে কাটিয়ে সম্প্রতি গ্রামে ফিরেছিলেন। এরপরই এই বীভৎস ঘটনার জন্ম দেয় সে।

নিহতের স্ত্রীর বয়ান অনুযায়ী, ঘটনার রাতে অভিযুক্ত দুই ভাই—উকিল শর্মা ও বোভা শর্মা সুশীলবাবুকে বাড়ির উঠোনে ডেকে আনে। এরপর দড়ি ও কাপড় দিয়ে তাঁকে বেঁধে ফেলে তারা। এই সময় সুশীলবাবুর স্ত্রী চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে এলে অভিযুক্তরা তাঁকে আটকায়। তাদের দাবি ছিল, সুশীলবাবুর শরীরে অশুভ আত্মা ভর করেছে এবং তারা ভূত তাড়ানোর চিকিৎসা করছে। স্ত্রী প্রতিবাদ জানালে তাঁকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করে এলাকা ছাড়া করা হয়।

সবথেকে ভয়াবহ তথ্য সামনে এনেছেন নিহতের স্ত্রী। তিনি দাবি করেছেন, খুনের আগে রীতিমতো তলোয়ার ও ছুরির পুজো করেছিল অভিযুক্তরা। সুশীলবাবুকে নতুন কুর্তা-পাজামা পরিয়ে সেই ধারালো অস্ত্র দিয়েই একাধিকবার আঘাত করা হয়। রক্তক্ষরণ এবং গুরুতর জখমের কারণে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। উল্লেখ্য, সুশীলবাবুই মাসখানেক আগে পাঞ্জাব থেকে উকিল শর্মাকে যত্ন করে বাড়ি ফিরিয়ে এনেছিলেন। সেই ভাইই কদিন বাদে এমন নৃশংসতায় যুক্ত হবে, তা ভাবতেই পারছেন না গ্রামবাসীরা।

খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বনমনখি থানার পুলিশ। পুলিশ আধিকারিক সঞ্জয় কুমার জানান, ইতিমধ্যে প্রধান অভিযুক্ত উকিল শর্মাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পূর্ণিয়ার জিএমসিএইচ (GMCH)-এ পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এটি পুরোপুরি কুসংস্কার থেকে জন্ম নেওয়া এক সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং ফরেন্সিক প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে প্রশাসন। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসার পাশাপাশি তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে।