সরকারি শিক্ষকদের কড়া হুঁশিয়ারি রাজস্থানের শিক্ষামন্ত্রীর, নিজের সন্তানকে সরকারি স্কুলে না পাঠালে ব্যবস্থা!

রাজস্থানের শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের ডাক দিয়ে এবার শিক্ষকদের একাংশের ওপর ক্ষোভ উগরে দিলেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী মদন দিলাওয়ার। রবিবার টোঙ্কে আয়োজিত একটি মেধা পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, সরকারি শিক্ষকরা যদি নিজের সন্তানদের সরকারি স্কুলে না পড়ান, তবে ধরে নিতে হবে তাঁরা নিজেরা পড়াতে জানেন না এবং তাঁরা কেবল বেতন হাতিয়ে নেওয়ার জন্য শিক্ষকতার পেশায় রয়েছেন।

শিক্ষামন্ত্রীর এই মন্তব্য ঘিরে গোটা রাজ্যে হইচই পড়ে গিয়েছে। মদন দিলাওয়ার বলেন, “যদি শিক্ষকরা নিজেদের সন্তানদের সরকারি স্কুলে ভর্তি করাতে না পারেন, তবে তাঁদের নৈতিক অধিকার নেই সরকারি স্কুলের শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা দেওয়ার কথা বলার। যে শিক্ষকের নিজের সন্তানের ওপর আস্থা নেই, তিনি কীভাবে অন্য শিশুদের ভবিষ্যতে গড়ে তুলবেন?”

শিক্ষকদের জন্য নতুন নিয়ম ও সতর্কবার্তা জারি করেছেন মন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, এখন থেকে সরকারি স্কুলের কোনো ছাত্রছাত্রী ৮০-র মধ্যে ৪০-এর কম নম্বর পেলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের কৈফিয়ত দিতে হবে। শুধু তাই নয়, রেজাল্ট সন্তোষজনক না হলে শিক্ষকদের ইনক্রিমেন্ট বা বেতন বৃদ্ধি আটকে দেওয়া হতে পারে এবং তাঁদের রাজ্যের প্রত্যন্ত বা দুর্গম অঞ্চলে শাস্তিস্বরূপ বদলি করা হবে। মন্ত্রী আরও যোগ করেন, অনেক শিক্ষকই ৮০-তে ১৩ পাওয়া ছাত্রছাত্রীদের ক্ষেত্রেও ১০০ শতাংশ সাফল্যের দাবি করেন, যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং মিথ্যাচার।

কেবল পড়াশোনা নয়, শিক্ষকদের ব্যক্তিগত আচার-আচরণের ওপরও কড়া নজরদারি চালাচ্ছে সরকার। মন্ত্রী জানিয়েছেন, বিদ্যালয় চত্বরে বা কর্মস্থলে গুটখা ও মদ সেবনকারীদের একটি তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “শিক্ষকরা কোথায় তাকিয়ে কী করছেন, তা প্রতিটি শিশুর ওপর প্রভাব ফেলে। আমরা কোনোভাবেই মদ বা গুটখা সেবনকারী শিক্ষকদের বরদাস্ত করব না।” এমনকি রাজনৈতিক পরিচয় বা স্বজনপ্রীতির তোয়াক্কা না করে নিয়মভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি।

নিজের কাজের সাফাই দিয়ে মন্ত্রী দাবি করেন, রাজস্থানের শিক্ষাক্ষেত্রে নীরব বিপ্লব ঘটছে। তাঁর কথায়, তিন বছর আগে দেশের মধ্যে ১৪ নম্বরে থাকা রাজস্থান এখন শিক্ষার মানদণ্ডে ৪ নম্বরে উঠে এসেছে। মন্ত্রী বুক ঠুকে ঘোষণা করেন, সরকারি স্কুলগুলো এখন বেসরকারি স্কুলের তুলনায় উন্নত শিক্ষা প্রদান করছে এবং সেই দিন শেষ হয়ে গেছে যখন বেসরকারি স্কুলকে শ্রেষ্ঠ ভাবা হতো। এই কঠোর অনুশাসনের মাধ্যমে রাজস্থানকে একটি পরিষ্কার ও মানসম্মত শিক্ষাক্ষেত্রে রূপান্তরিত করাই এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য।