“মোদি এক অসাধারণ নেতা”, ভারতের জয়যাত্রায় মুগ্ধ মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও

ভারত দ্রুত বিশ্বশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে এবং বর্তমান সময়ে ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির সম্পর্ক অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বহুগুণ শক্তিশালী। সম্প্রতি এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এমনই মন্তব্য করলেন মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি জানান, ভারত ও আমেরিকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এখন এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে।

আইএএনএস-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রুবিও স্পষ্ট করেন যে, ভারত কেবল আমেরিকার ঘনিষ্ঠ অংশীদারই নয়, বরং এক নির্ভরযোগ্য মিত্র। প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে যে বোঝাপড়া রয়েছে, তা দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন দিশা দেখাচ্ছে। রুবিও আরও বলেন, “আমরা প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং তাঁর উন্নয়নমূলক কাজের বড় ভক্ত। ভারত আজ অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে যে অভাবনীয় সাফল্য দেখাচ্ছে, তা গোটা বিশ্বের কাছে অনুকরণীয়। বিশ্বমঞ্চে সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী দেশ হিসেবে ভারতের ভূমিকা ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।”

ভারতের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদার বিষয়ে মার্কিন বিদেশসচিব বলেন, এই ক্ষেত্রে ভারতকে সর্বাত্মক সহায়তা করতে প্রস্তুত আমেরিকা। জ্বালানির উৎস বৈচিত্র্যময় করার যে কৌশলী পথে ভারত হাঁটছে, তাকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে ওয়াশিংটন। রুবিও-র মতে, এই কৌশলগত সহযোগিতা দীর্ঘমেয়াদে দুই দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে আরও সুদৃঢ় করবে।

দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এবং জি-৭ সম্মেলনের ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরে তিনি বলেন, জি-৭ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও প্রধানমন্ত্রী মোদির বৈঠক অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। দুই দেশ এখন বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। কোয়াড (QUAD) গোষ্ঠীর গুরুত্ব নিয়েও তিনি সরব হন। রুবিও জানান, খুব শীঘ্রই ভারতে কোয়াডের পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। চলতি বছরের শেষের দিকেই তাঁর পুনরায় ভারত সফরের ইচ্ছাও তিনি ব্যক্ত করেছেন।

সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো, আগামী বছরের শুরুতেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভারত সফরের সম্ভাবনা। রুবিও জানান, এই সফরের প্রস্তুতি নিয়ে দুই দেশ কাজ করছে। কূটনৈতিক মহলের মতে, ট্রাম্পের এই সম্ভাব্য সফর ভারত-মার্কিন কৌশলগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক মাইলফলক হয়ে থাকবে। ভারতের বিশ্বশক্তির উত্থানকে আমেরিকা যেভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে, তা আগামীর ভূ-রাজনীতিতে এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।