অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে বড় বার্তা শমীক ভট্টাচার্যের! কাদের জন্য ছাড়, কাদের জন্য আইন?

সোমবার, ২৯ জুন রাজ্যের বিধানসভায় পেশ হতে চলেছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘ইউনিফর্ম সিভিল কোড’ (UCC) বা অভিন্ন দেওয়ানি বিধি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে এই বিলটি পেশ করার প্রস্তুতি চূড়ান্ত করেছে। এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপের ঠিক আগে, বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ইউসিসি নিয়ে দলের অবস্থান স্পষ্ট করলেন। তাঁর মতে, এটি বিজেপির রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির অংশ এবং এতে লুকোচুরির কোনো অবকাশ নেই।

শমীক ভট্টাচার্য তাঁর এক্স (X) পোস্টে উল্লেখ করেন, রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি প্রবর্তনের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। আইনের চোখে সমস্ত নাগরিকের সমান অধিকার ও সমান কর্তব্য নিশ্চিত করাই এই আইনের মূল লক্ষ্য। তিনি ব্যাখ্যা করেন, বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার এবং দত্তক গ্রহণের মতো নাগরিক বিষয়গুলোতে ধর্মভিত্তিক ব্যক্তিগত আইনের বদলে একটি অভিন্ন কাঠামো দেশের ঐক্য, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং সাংবিধানিক সমতার আদর্শকে আরও শক্তিশালী করবে।

ইউসিসি বিল নিয়ে যে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে, তা দূর করতে শমীক ভট্টাচার্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ের ওপর আলোকপাত করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৬৬ (২৫) এবং অনুচ্ছেদ ৩৪২ অনুযায়ী স্বীকৃত তফসিলি জনজাতি (Scheduled Tribes)-এর সদস্যরা এই আইনের আওতার বাইরে থাকবেন। অর্থাৎ, তাদের সংবিধান স্বীকৃত ঐতিহ্য, প্রথা ও বিশেষ অধিকারগুলো পুরোপুরি সংরক্ষিত থাকবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই বিলে একদিকে যেমন সকল নাগরিকের জন্য সমান আইন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য রয়েছে, তেমনই তফসিলি জনজাতির সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়টিও সমান গুরুত্ব পেয়েছে।

আইনটি কার্যকর হলে ব্যক্তিগত আইনের বিভিন্ন বৈষম্য দূর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে, যেখানে ব্যক্তিগত আইনে বহুবিবাহের মতো প্রথা এখনও চালু রয়েছে, ইউসিসি সেই বৈষম্য বিলুপ্ত করতে সাহায্য করবে। শমীক ভট্টাচার্য আরও নিশ্চিত করেছেন যে, সন্তানসংখ্যা নির্ধারণ করা এই আইনের উদ্দেশ্য বা বিধানের কোনো অংশ নয়।

সামগ্রিকভাবে, বিধানসভায় এই বিল পেশ হওয়াকে বাংলার রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সকল মহলে এখন এই বিলের খুঁটিনাটি এবং এর রূপায়ণ নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। শাসক দলের দাবি, এই আইন কার্যকর হলে বাংলার সামাজিক কাঠামো আরও সুশৃঙ্খল ও ন্যায়ভিত্তিক হয়ে উঠবে।