প্রেমে কি সত্যিই সীমানা নেই? গুজরাতের তরুণের বাংলাদেশি স্ত্রীর ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত!

প্রেমের কোনো সীমানা নেই—এমনটা প্রচলিত থাকলেও গুজরাতের আনন্দ জেলার লাম্বভেল গ্রামের তরুণ প্যাটেলের জীবনে সীমান্তই এখন সবচেয়ে বড় কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভালোবাসা আর ঘর বাঁধার স্বপ্ন নিয়ে শুরু করা এই পরিবারটির জীবনে আচমকাই নেমে এসেছে আইনি বিপর্যয়। গুজরাত পুলিশের ‘অপারেশন ডেল্টা হান্ট’ বা তার পরবর্তী পদক্ষেপের জের ধরে এখন বিচ্ছেদের আশঙ্কায় দিন কাটছে তরুণ প্যাটেলের।
ঘটনার সূত্রপাত দোসরা জুন। তরুণ প্যাটেল জানান, তার স্ত্রী কাজল বাংলাদেশের বাসিন্দা। কাজল তার অসুস্থ মায়ের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে বাংলাদেশে ফোন করেছিলেন। তরুণ বলেন, “সেই ফোন কলটি ট্র্যাক করেই পুলিশ আমাদের বাড়ির ঠিকানায় পৌঁছে যায়।” পুলিশি জেরার মুখে তরুণ স্বীকার করতে বাধ্য হন যে তার স্ত্রী বাংলাদেশি এবং ওই ফোনটি তার শাশুড়ির কাছে করা হয়েছিল। এরপরই প্রশাসন জানতে পারে যে, কাজলের কাছে ভারতে বসবাসের কোনো বৈধ পাসপোর্ট, ভিসা বা বিয়ের কোনো আইনি প্রমাণপত্র নেই। অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে পুলিশ তাকে আটক করে নিয়ে যায়।
বর্তমানে কাজলকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন। এই পরিস্থিতিতে তরুণ প্যাটেলের সামনে এখন পাহাড়সমান উদ্বেগ। তার মূল চিন্তা শুধু স্ত্রীকে বাঁচানো নয়, বরং দুই সন্তান যেন মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত না হয় তা নিশ্চিত করা।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ও রাজ্য স্তরে বিভিন্ন অপারেশন চলার সময়ই এই ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করা হয়। কাজল বা তরুণ কেউই এই অনুপ্রবেশ বা বিয়ের বিষয়টি আইনত নথিবদ্ধ করতে পারেননি, যা তাদের আইনি লড়াইয়ে দুর্বল করে দিয়েছে। তরুণ এখন প্রশাসনের কাছে মানবিক আবেদনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, কিন্তু কঠোর আইনি প্রক্রিয়ার সামনে তার এই আকুতি কতটা কাজে আসবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। একসময় যে ফোন কলটি ছিল পরিবারের স্নেহের সেতু, এখন সেটিই হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদের সংসার ভাঙার কারণ।