চারধামে প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের মিশন সফল, হেলিকপ্টার পরিষেবায় নতুন নজির, স্বস্তিতে পুণ্যার্থীরা!

২০২৬ সালের চারধাম যাত্রার প্রথম পর্বের হেলিকপ্টার পরিষেবা অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন করেছে অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রক। এপ্রিল মাসে শুরু হওয়া এই পরিষেবা ২৬ জুন পর্যন্ত চলেছে। এই সময়ের মধ্যে আকাশপথে তীর্থযাত্রীদের জন্য এক নজিরবিহীন নিরাপত্তা ও পরিচালনার মানদণ্ড স্থাপন করেছে সরকার। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দৈনিক গড়ে ৪০০টি হেলিকপ্টার ওঠানামা করেছে এবং মোট ১২,০৩২টি শাটল ট্রিপের মাধ্যমে ৬৭,০৬৪ জন পুণ্যার্থীকে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ২,০৬৫টি চার্টার অপারেশনের মাধ্যমে আরও ১১,৭১৫ জন তীর্থযাত্রী এই পরিষেবা গ্রহণ করেছেন।

অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী রাম মোহন নাইডু এই সাফল্যকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দূরদর্শী নেতৃত্বের ফসল বলে অভিহিত করেছেন। মন্ত্রী জানান, “আমাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল প্রতিটি পুণ্যার্থীর সফরকে সহজ ও নিরাপদ করা। যাত্রা শুরুর অনেক আগে থেকেই ডিজিসিএ (DGCA) এবং উত্তরাখণ্ড সিভিল এভিয়েশন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (UCADA)-র সঙ্গে সমন্বয় রেখে পরিস্থিতির উপর সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হয়েছে।”

হিমালয়ের মতো দুর্গম এবং পরিবর্তনশীল আবহাওয়ার অঞ্চলে হেলিকপ্টার চালানো অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। এই ঝুঁকি কমাতে মন্ত্রক একটি বহুস্তরীয় নিরাপত্তা কৌশল গ্রহণ করেছিল। এর মধ্যে অন্যতম হলো আধুনিক এয়ার ট্র্যাফিক ম্যানেজমেন্ট এবং ‘কে-রুট’ প্রবর্তন। সহস্রধারা ও সেরসিতে এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোল (ATC) চালু করা হয়েছে এবং বদ্রীনাথ ও কেদারনাথে স্থায়ী পরিকাঠামো তৈরির কাজও এগিয়ে চলছে। এছাড়াও ৩৩টি PTZ ক্যামেরা এবং কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টারের মাধ্যমে হেলিকপ্টারগুলির গতিবিধি ও আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।

পাইলটদের সুরক্ষার বিষয়ে মন্ত্রক কোনো ছাড় দেয়নি। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, পাহাড়ি এলাকায় হেলিকপ্টার চালানোর জন্য পাইলটদের কমপক্ষে ৭৫০ ঘণ্টার অভিজ্ঞতা এবং কেদারনাথে অন্তত ১০টি টেক-অফ ও ল্যান্ডিংয়ের অভিজ্ঞতা থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া, যাত্রীদের সুরক্ষার জন্য প্রতিটি হেলিকপ্টারের ধারণক্ষমতা ৭০ শতাংশে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। মন্ত্রী নাইডু দৃঢ়তার সঙ্গে জানান, “নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আমরা জিরো-টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর আবেগের সঙ্গে কোনোভাবেই আপস করা যাবে না।”

উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামির সক্রিয় সহায়তায় এবং সমস্ত সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সহযোগিতায় চারধাম যাত্রা ২০২৬-এর এই প্রথম পর্যায় ভারতীয় এভিয়েশন খাতের জন্য এক মাইলফলক হয়ে রইল।