চালকই এখন মালিক! গুজরাটে অমিত শাহর হাত ধরে পথ চলা শুরু করল ‘ভারত ট্যাক্সি’

অ্যাপ-ভিত্তিক ট্যাক্সি সংস্থাগুলোর অতিরিক্ত ভাড়া ও চালকদের হয়রানির অভিযোগ এখন অতীত হতে চলেছে। শনিবার গুজরাটের গান্ধীনগরে সমবায় মডেলের ওপর ভিত্তি করে এক অভিনব ট্যাক্সি পরিষেবা ‘ভারত ট্যাক্সি’ (Bharat Taxi)-র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী অমিত শাহ।

মালিকানা এখন চালকদের হাতে এই পরিষেবার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো—এখানে কোনো একক কোম্পানি বা মালিক নেই। প্রায় ৭ লক্ষ চালক এই পরিষেবার অংশীদার এবং শেয়ারহোল্ডার। অমিত শাহ জানান, “ব্যক্তিগত কোনো অ্যাপের ওপর নির্ভরশীল না থেকে এই সমবায় মডেল চালকদের কেবল সম্মানই দেবে না, বরং ব্যবসার মালিকানাও নিশ্চিত করবে।” সরকারের লক্ষ্য একটাই—চালক এবং যাত্রী, কেউই যেন কোনো বেসরকারি অ্যাগ্রিগেটর সংস্থার শোষণের শিকার না হন।

কেন ‘ভারত ট্যাক্সি’ আলাদা?

  • শোষণের মুক্তি: চালকদের থেকে অতিরিক্ত কমিশন কাটা বা বিনা কারণে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়ার মতো সমস্যা আর থাকবে না।

  • সব ধরনের বিকল্প: এই পরিষেবায় কেবল চার চাকার ক্যাব নয়, মিলবে দু-চাকার বাইক ট্যাক্সি এবং অটো-রিকশার সুবিধাও।

  • সফল পরীক্ষা: দেশের বিভিন্ন স্থানে পরীক্ষামূলকভাবে চালানোর পর আজ থেকে গুজরাটের সমস্ত প্রধান শহরে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পরিষেবা চালু হলো।

আমুল মডেলের অনুকরণে পরিবহন বিপ্লব দুগ্ধ উৎপাদনে আমুল (Amul) সমবায় মডেল যেভাবে বিশ্বে নজির গড়েছে, ঠিক সেই ধাঁচেই পরিবহণ ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে চাইছে কেন্দ্র। অমিত শাহ জানান, আহমেদাবাদ মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন, গুজরাট মেট্রো রেল কর্পোরেশন, রাজ্য ট্র্যাফিক পুলিশ এবং বিভিন্ন বিমানবন্দর ও রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এই প্রকল্পের এমওইউ (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

চালকদের জন্য সুখবর সরকারের দাবি, এই মডেলের ফলে চালকদের মাসিক আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি, তাদের সামাজিক সুরক্ষা এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে। যাত্রীদের জন্যও এটি একটি স্বচ্ছ এবং নির্ভরযোগ্য পরিবহণ ব্যবস্থা হিসেবে গড়ে উঠবে।

পরিবহণ শিল্পে সমবায়ভিত্তিক এই নতুন পরীক্ষা সফল হলে, দেশের বাকি রাজ্যগুলোতেও ‘ভারত ট্যাক্সি’ মডেল ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে কেন্দ্রের। এটি শুধু একটি পরিষেবা নয়, বরং চালকদের জন্য এক নতুন অর্থনৈতিক স্বাধীনতার পথপ্রদর্শক হতে চলেছে।