‘মা, তুমি সুখী থেকো!’ মৃত্যুর আগে ভিডিও বার্তায় বিস্ফোরক পুরোহিত, আত্মহত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্য

উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহরের শিকারপুর শহরের নিগঞ্জের চামাদ মন্দিরে এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। মন্দিরের পুরোহিত বিট্টু তার নিজস্ব আবাসস্থলেই সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে। তবে এই আত্মহত্যার ঘটনাটি কেবল একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলাতেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং মৃত্যুর আগে পুরোহিতের রেকর্ড করা একটি ভিডিও বার্তা পুরো ঘটনাকে নতুন মোড় দিয়েছে।
ভিডিও বার্তায় বিস্ফোরক অভিযোগ: প্রায় তিন মিনিটের ওই ভিডিও বার্তায় বিট্টু তার মৃত্যুর জন্য তার মা-সহ মোট চারজনকে সরাসরি দায়ী করেছেন। ভিডিওটিতে পুরোহিতকে মানসিকভাবে অত্যন্ত বিপর্যস্ত ও আবেগপ্রবণ দেখা গিয়েছে। চরম সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তিনি তার মায়ের উদ্দেশে আবেগঘন বার্তা দিয়ে বলেন, “মা, তুমি সারা জীবন সুখী থাকো। আজ আমার শেষ দিন। আমি আর কাউকে ক্ষমা করব না।” পাশাপাশি তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি, যেন পৃথিবীর আর কোনো মানুষ গরীব হয়ে জন্ম না নেয়।”
পুলিশি তদন্ত ও ফরেনসিক প্রমাণ: ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার, যখন ভক্তরা মন্দিরে পূজার জন্য এসে দেখেন পুরোহিতের ঘর ভেতর থেকে তালাবদ্ধ। দীর্ঘক্ষণ কোনো সাড়া না পাওয়ায় জানালা দিয়ে উঁকি দিতেই তার ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান তারা। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজা ভেঙে দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে এটি আত্মহত্যার মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হলেও, ভাইরাল ভিডিওটি বর্তমানে তদন্তের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু। পুলিশ জানিয়েছে:
ভিডিওটির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সাইবার বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে।
অভিযুক্ত ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও ফরেনসিক প্রমাণের সঙ্গে ভিডিওর বয়ান মিলিয়ে দেখা হচ্ছে।
দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে এই মন্দিরে শান্তিপ্রিয় পুরোহিত হিসেবে পরিচিত বিট্টুর এই পরিণতির পেছনে পারিবারিক কলহ না কি অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা উদঘাটন করতে তৎপর পুলিশ প্রশাসন। ভিডিওতে উল্লেখিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা।