প্রেমিকাকে খুশি করতে হবু স্বামীকে খুন! পুলিশের জালে আটক সিয়া-চেতনের নির্লজ্জ আচরণে তোলপাড়

মহারাষ্ট্রের ঐতিহাসিক লোহাগড় দুর্গের গভীর খাদে হবু স্বামীকে প্রলুব্ধ করে নিয়ে গিয়ে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় স্তম্ভিত গোটা দেশ। ২০-২৫ বছর বয়সী সিয়া গোয়েল এবং তার প্রেমিক চেতন চৌধুরীর এই পৈশাচিক কাণ্ড নিয়ে জনমনে তীব্র ঘৃণা ও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কেতন আগরওয়াল নামক এক যুবকের জীবন কেড়ে নেওয়ার পরেও এই দুই অভিযুক্তের চোখেমুখে নেই কোনো অনুশোচনা। সম্প্রতি ২৯ জুন পর্যন্ত তাদের পুলিশি হেফাজতে পাঠানো হয়েছে, আর সেই হেফাজতের সময় থেকেই সামনে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হেফাজতে থাকাকালীন অভিযুক্ত তরুণী সিয়ার আচরণ রীতিমতো অস্বাভাবিক। একটি খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়ে লকআপে থাকার পরেও তার মনে নেই কোনো অপরাধবোধ। বরং তার দাবি শুনে রীতিমতো চমকে গিয়েছেন কর্তব্যরত পুলিশকর্মীরা। সূত্রের খবর, লকআপে বসেই সিয়া পুলিশের কাছে বিয়ার ও মদ দাবি করে বসেছিল! তার এই অসংবেদনশীল ও নির্লজ্জ আবদার শুনে হতবাক হয়ে যান তদন্তকারীরা। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে তার এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে এবং তাকে কড়া ভাষায় তিরস্কারও করে। এরপরই সে চুপ করে যায়।

তদন্তকারীদের দাবি, সিয়াকে আলাদা লকআপে রাখা হয়েছে এবং সে খুবই স্বাভাবিক আচরণ করছে। এমনকি খুনের এই চরম অপরাধের পরও তার চোখে-মুখে নেই কোনো উদ্বেগ বা দুশ্চিন্তার রেখা। সিয়া এবং চেতন—যারা এতদিন প্রেমের জালে আবদ্ধ হয়ে কেতনকে সরিয়ে দেওয়ার ছক কষেছিল, তারা এখন একে অপরের দিকে আঙুল তুলছে। পুলিশি জেরায় এই দুই খুনি এখন বাঁচার জন্য পরস্পরের ওপর দায় চাপানোর প্রতিযোগিতায় নেমেছে।

চেতন তদন্তকারীদের জানিয়েছে, সে সিয়ার সঙ্গে পালিয়ে যেতে চেয়েছিল, কিন্তু পারিবারিক সম্মানের ভয়ে সিয়া রাজি হয়নি। বরং সিয়া নিজেই জেদ ধরেছিল যে, কোনোভাবে কেতনকে তাদের পথ থেকে সরিয়ে দিতে হবে। উল্টোদিকে, সিয়া তার বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তার দাবি, কেতনকে হত্যার পুরো পরিকল্পনা এবং নীলনকশাটি আসলে চেতনের মাথা থেকেই এসেছিল।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে যে, ঠান্ডা মাথায় লোহাগড় দুর্গের নির্জন এলাকা বেছে নিয়েই এই খুনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। শত শত ফুট গভীর খাদে ফেলে দিয়ে নিশ্চিত করা হয়েছিল কেতনের মৃত্যু। কিন্তু ঘটনার পর পুলিশের জালে ধরা পড়ার পর তাদের এই পারস্পরিক দোষারোপের খেলা এবং সিয়ার অদ্ভুত আচরণে তদন্তকারীরাও ধাঁধায় পড়েছেন। সিয়া ও চেতনের আসল উদ্দেশ্য এবং খুনের নিখুঁত ছক সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পুলিশ তাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে। লোহাগড় দুর্গের এই রক্তভেজা ঘটনা শুধু একটি খুনের কাহিনী নয়, বরং আধুনিক সময়ের অবক্ষয়ের এক চূড়ান্ত উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।