ভক্তের টাকায় পকেট ভারী? রাম মন্দির দুর্নীতিতে বড় পদক্ষেপ পুলিশের, রাডারে সেবাদাররা।

অযোধ্যার রাম মন্দিরকে ঘিরে এক নজিরবিহীন আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগে উত্তাল দেশ। রাম মন্দিরের জন্য সংগৃহীত অনুদান এবং ভক্তদের দেওয়া প্রণামীর অর্থ তছরুপের অভিযোগে এবার কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করল উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)-এর প্রাথমিক রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে এই ঘটনায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এই চাঞ্চল্যকর মামলায় মোট আটজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে এবং তাঁদের সকলকেই পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
‘শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট’-এর জমা পড়া প্রণামী এবং অনুদানের হিসাবে বড় ধরনের গড়মিলের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এই অনিয়ম খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছিল। গত মঙ্গলবার তারা যে অন্তর্বর্তী রিপোর্ট জমা দেয়, তাতে নগদ অর্থ গণনা, নিরাপত্তা এবং অর্থ সংরক্ষণের পদ্ধতিতে চরম গাফিলতির প্রমাণ মিলেছে। এই রিপোর্টের ভিত্তিতেই ট্রাস্টের তরফে পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়।
উত্তরপ্রদেশ পুলিশের লখনউ জ়োনের এডিজি প্রবীণ কুমার বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে জানান, এফআইআর-এ নাম থাকা অভিযুক্তদের মধ্যে অন্যতম হলেন রামশঙ্কর যাদব ওরফে টিন্নু, লবকুশ মিশ্র এবং অনুকল্প মিশ্র। লবকুশ ও অনুকল্প সরাসরি মন্দিরে দান হিসেবে পাওয়া নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী গণনা ও নথিভুক্তির দায়িত্বে ছিলেন। তবে তদন্তের পরিধি এখানেই শেষ নয়। সূত্রের খবর, এসআইটি-র প্রাথমিক রিপোর্টে প্রায় ১৭ জনকে সরাসরি দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। এছাড়া মন্দিরের সঙ্গে যুক্ত প্রায় দেড়শো সেবাদারের জীবনযাত্রার মান এবং সম্পত্তির হঠাৎ বৃদ্ধি নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, রাম মন্দির প্রতিষ্ঠার পরবর্তী অল্প সময়েই অনেকের সম্পদ অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
এই ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনেও শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর। বিরোধীরা এই প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, প্রশাসন সাফ জানিয়েছে, ভক্তদের বিশ্বাস ও ধর্মীয় ভাবাবেগ বজায় রাখতে তদন্তে বিন্দুমাত্র গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর আরও তথ্য বেরিয়ে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রয়োজনে নতুন করে আরও বড় মাপের গ্রেফতারিও হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকরা। এখন তদন্তের মোড় কোন দিকে যায় এবং আদালতের পর্যবেক্ষণে কী উঠে আসে, সেদিকেই তাকিয়ে দেশবাসী।