বিশ্বজুড়ে মন্দার আতঙ্ক, তবুও ভারতের দিকেই বিনিয়োগের ঢল! জেনে নিন কোন সংস্থা দিচ্ছে কত টাকা?

মধ্য প্রাচ্যের সংঘাতের জেরে বর্তমানে বিশ্ব অর্থনীতি এক গভীর সংকটের সম্মুখীন। আন্তর্জাতিক মুদ্রা ভাণ্ডার (IMF) ২০২৬ সালের বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে দিয়েছে। হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথগুলোতে উত্তেজনার ফলে জ্বালানি, গ্যাস এবং সারের বাজারে তীব্র অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে মুদ্রাস্ফীতি ও খাদ্যপণ্যের দামের ওপর। তবে এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও ভারত এক উজ্জ্বল ব্যতিক্রম হিসেবে উঠে এসেছে। স্থিতিশীল নেতৃত্ব এবং ডিজিটাল অবকাঠামোর দ্রুত প্রসারের কারণে বিশ্বখ্যাত বহুজাতিক সংস্থাগুলো ভারতকে তাদের প্রধান বিনিয়োগ ক্ষেত্র হিসেবে বেছে নিয়েছে।

গত কয়েক মাসে ভারতে বিনিয়োগের একটি নজিরবিহীন জোয়ার লক্ষ্য করা গেছে। তথ্যপ্রযুক্তি, ডেটা সেন্টার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের লগ্নি ভারতকে বিশ্বের প্রযুক্তি মানচিত্রে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিচ্ছে।

বিশাল বিনিয়োগের খতিয়ান:

গুগল (Google): ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে গুগল ভারতে তাদের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগের ঘোষণা করে। আগামী পাঁচ বছরে (২০২৬-২০৩০) প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে। এই তহবিলের লক্ষ্য ভারতের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) সক্ষমতা বৃদ্ধি, নতুন সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপন এবং ক্লাউড অবকাঠামো শক্তিশালী করা।

এয়ারট্রাঙ্ক (AirTrunk): জুন মাসে অস্ট্রেলিয়ার এই সংস্থাটি ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা করেছে। এর মাধ্যমে সারা দেশে ৫ গিগাওয়াট নতুন ডেটা সেন্টার তৈরি করা হবে, যা ভারতের ডিজিটাল অর্থনীতিকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

আমাজন (Amazon): ২৫ জুন ২০২৬ তারিখে আমাজনের সিইও অ্যান্ডি জ্যাসি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠকের পর ঘোষণা করেন যে, ২০৩০ সাল পর্যন্ত আমাজন ভারতে ৪৮ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে। এর মধ্যে ১৩ বিলিয়ন ডলার শুধুমাত্র কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ক্লাউড অবকাঠামোর প্রসারে ব্যয় করা হবে।

সেন্ট-গোবেঁ (Saint-Gobain): ফরাসি সংস্থাটি আগামী পাঁচ বছরে ভারতে ১ বিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ভারতে তাদের ৮২টি কারখানা রয়েছে, যেখান থেকে এখন শুধুমাত্র দেশের চাহিদা পূরণ নয়, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার মতো আন্তর্জাতিক বাজারেও পণ্য রপ্তানি করা হচ্ছে।

সিপিপি ইনভেস্টমেন্টস (CPP Investments): কানাডার এই প্রতিষ্ঠানটি হায়দ্রাবাদের ‘CtrlS Datacenters’-এ ৭,০০০ কোটি টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। হাইপারস্কেল ডেটা সেন্টার তৈরির ক্ষেত্রে এটি একটি বড় কৌশলগত পদক্ষেপ।

এবিবি (ABB): শিল্প ক্ষেত্রে উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে এবং গবেষণা ও উন্নয়নে (R&D) এবিবি ৭৫০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ নিশ্চিত করেছে।

এই বিপুল বিনিয়োগ কেবল পুঁজির প্রবেশ নয়, এটি ভারতের ডিজিটাল অবকাঠামো এবং এআই-চালিত অর্থনীতির প্রতি বিশ্ববাজারের অগাধ আস্থার প্রতীক। ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝেও ভারতের এই অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বিশ্ব অর্থনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে সক্ষম বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।