এআই ও ক্লাউড প্রযুক্তিতে ভারতের জয়জয়কার! অ্যামাজনের ৪৮ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগে বদলাবে দেশের অর্থনীতির ছবি

ভারতের ডিজিটাল অর্থনীতিতে ঐতিহাসিক লগ্নির ঘোষণা করল মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থা অ্যামাজন। সম্প্রতি নতুন দিল্লির রেসকোর্স রোডে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে অ্যামাজনের সিইও অ্যান্ডি জ্যাসির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পরেই সংস্থাটি জানিয়ে দিল, আগামী ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতে তারা ৪৮ বিলিয়ন ডলার অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৪.১ লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে চলেছে। এই বিশাল অংকের লগ্নির খবর সামনে আসতেই ভারতীয় শিল্পমহলে খুশির হাওয়া।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এদিন এক্স (X) হ্যান্ডেলে এই বৈঠকের ছবি পোস্ট করে বলেন, “অ্যান্ডি জ্যাসির সঙ্গে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। অ্যামাজনের এই ৪৮ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগকে আমরা স্বাগত জানাই। এটি ভারতের যুবকদের জন্য প্রচুর নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে এবং বিশ্ববাজারে ভারতের ওপর আস্থার প্রতিফলন।”
অ্যামাজনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই বিনিয়োগের একটি বড় অংশ খরচ করা হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং ক্লাউড অবকাঠামো তৈরির কাজে। সংস্থাটির হিসেব অনুযায়ী, ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে শুধু AI ও ক্লাউড খাতেই তারা ২১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে। এটি ভারতের প্রযুক্তি খাতে কোনো গ্লোবাল টেক জায়ান্টের করা অন্যতম বড় বিনিয়োগ হতে চলেছে। ২০১০ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত ভারতে অ্যামাজনের মোট বিনিয়োগের অংক ৮৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে, যার মধ্যে ই-কমার্স, লজিস্টিকস, ডেটা সেন্টার এবং কুইক কমার্স অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে AI-এর লড়াই তীব্র হচ্ছে। এই লড়াইয়ে টিকে থাকতে প্রতিটি বড় প্রযুক্তি সংস্থা অবকাঠামো তৈরিতে বিলিয়ন ডলার খরচ করছে। অ্যামাজনের ক্লাউড সার্ভিস ‘AWS’ ইতিমধ্যেই বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী পরিষেবা। ভারতে তাদের এই সক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ভারতীয় স্টার্টআপগুলি এবং সরকারি সংস্থাগুলি আরও উন্নত প্রযুক্তির সুবিধা পাবে। দেশের অভ্যন্তরেই শক্তিশালী ডেটা সেন্টার এবং উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সার্ভার তৈরি হওয়ার ফলে প্রযুক্তিনির্ভর কাজ আরও গতিশীল হবে।
অ্যামাজনের জন্য ভারত যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাজার, তা এই বিনিয়োগ থেকেই স্পষ্ট। গত কয়েক বছরে ই-কমার্স, ডিজিটাল পেমেন্ট এবং ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের মাধ্যমে সংস্থাটি ভারতের সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। এখন তাদের লক্ষ্য কুইক কমার্স পরিষেবা ‘অ্যামাজন নাও’-কে ভারতের ৩০০-রও বেশি শহরে পৌঁছে দেওয়া। বিপুল ইন্টারনেট ব্যবহারকারী এবং দ্রুত বর্ধনশীল ডিজিটাল ইকোসিস্টেমের কারণেই অ্যামাজন দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় ভারতে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করতে চাইছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই লগ্নির ফলে শুধু কর্মসংস্থানই তৈরি হবে না, বরং ভারতের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম আরও শক্তিশালী হবে। আমাজন যে শুধুমাত্র পণ্য বিক্রির প্ল্যাটফর্ম হিসেবে নয়, বরং ভারতের ডিজিটাল পরিকাঠামোর মেরুদণ্ড হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে, তা এই ৪.১ লক্ষ কোটি টাকার ঘোষণায় স্পষ্ট। সব মিলিয়ে দেশের অর্থনীতি এবং প্রযুক্তি মানচিত্র আগামী কয়েক বছরে এক অভাবনীয় পরিবর্তনের সাক্ষী হতে চলেছে।