এআই-এর ধাক্কায় আয় কমল লক্ষাধিক টাকা! মাসিক ২ লক্ষ থেকে সোজা ৪০ হাজারে নামলেন তরুণ কপিরাইটার!

এক কপিরাইটারের আবেগঘন একটি রেডডিট (Reddit) পোস্ট নিয়ে বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন করে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই (AI) কীভাবে বিশ্বজুড়ে সমস্ত ক্রিয়েটিভ পেশাগুলোকে আমূল বদলে দিচ্ছে, সেই জল্পনা এবং আশঙ্কা আবার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। ওই পেশাদার ব্যক্তি দাবি করেছেন যে, আধুনিক এআই প্রযুক্তির কারণে তাঁর কেরিয়ারে মারাত্মক বিপর্যয় নেমে এসেছে, যার ফলে তাঁর মাসিক আয় এক ধাক্কায় প্রায় ২ লক্ষ টাকা থেকে কমে মাত্র ৪০ হাজারে নেমে এসেছে। এই চরম অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়ে তিনি এখন কীভাবে ঘুরে দাঁড়াবেন, সেই মর্মে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের কাছে সাহায্য ও পরামর্শ চেয়েছেন।
ওই অজ্ঞাতপরিচয় রেডডিট ব্যবহারকারী তাঁর ভাইরাল পোস্টটির শিরোনাম দিয়েছিলেন, “মাসিক ২ লাখ থেকে ৪০ হাজারে নেমে এলাম; জীবনের সবচেয়ে বড় পতন।” তিনি তাঁর পোস্টে বিস্তারিত জানিয়ে লিখেছেন যে আজ থেকে প্রায় আট বছর আগে তিনি কলেজ জীবন থেকেই ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন। মাত্র ১৮ বছর বয়সে তিনি তাঁর জীবনের প্রথম রিমোট কন্ট্র্যাক্টটি পান এবং পরবর্তী সময়ে বছরের পর বছর ধরে দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করে একটি অত্যন্ত সফল এবং লাভজনক কেরিয়ার গড়ে তোলেন।
তিনি দাবি করেন যে মাত্র ২২ বছর বয়সের মধ্যেই তাঁর মাসিক আয় প্রায় আকাশছোঁয়া হয়ে ২ লাখ টাকায় গিয়ে ঠেকেছিল। তবে তাঁর অভিযোগ, ২০২৬ সালের শুরুতেই পরিস্থিতি অত্যন্ত নাটকীয়ভাবে বদলে যায়, যখন বিভিন্ন সংস্থা ও কোম্পানিগুলি তাদের দপ্তরে ব্যাপকভাবে এআই-চালিত টুল এবং সফটওয়্যার ব্যবহার করা শুরু করে। তাঁর মতে, তাঁর পূর্বতন নিয়োগকর্তা শেষ পর্যন্ত রক্তমাংসের মানুষের বদলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত সিস্টেম ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেন, যার ফলে তাঁকে বাধ্য হয়ে চাকরি হারাতে হয়।
পূর্ববর্তী কাজটি হারানোর পর, ওই তরুণ কপিরাইটার বাধ্য হয়ে হায়দরাবাদের একটি নতুন মার্কেটিং এজেন্সিতে যোগ দেন। এই সংস্থাটি মূলত তেলেঙ্গানা ট্যুরিজমের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্যাম্পেন পরিচালনা করে থাকে। যদিও এই নতুন চাকরিটি তাঁকে কিছুটা আর্থিক নিরাপত্তা দিয়েছে, তবুও তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন যে অতীতে নিয়মিত ২ লাখ টাকা আয় করার পর বর্তমানে মাসে মাত্র ৪০,০০০ টাকা উপার্জন করা তাঁর মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি আরও জানান যে বর্তমানে তিনি এই এজেন্সিতে মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি তৈরিতে সাহায্য করেন এবং অনেক বড় বড় ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সফলভাবে সামলান। কিন্তু তাঁর স্পষ্ট মনে হয় যে তাঁর কাজের পরিমাণ এবং দক্ষতার তুলনায় বর্তমান পারিশ্রমিক অত্যন্ত কম। পাশাপাশি তিনি বর্তমান অফিসের কাজের পরিবেশ নিয়ে গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, সহকর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক সৃজনশীলতা এবং কাজের প্রতি সত্যিকারের আবেগের বড্ড অভাব রয়েছে, যা তাঁর কাজের আগ্রহ ও স্পৃহা দিনদিন আরও কমিয়ে দিচ্ছে।
এদিকে তাঁর এই আবেগঘন পোস্টটি ইন্টারনেটে প্রকাশমাত্রই তা দ্রুত শত শত রেডডিট ব্যবহারকারীর নজর কাড়ে। তাঁদের মধ্যে অনেকেই কেরিয়ারে এমন অপ্রত্যাশিত ধাক্কা খাওয়া এবং দ্রুত বদলে যাওয়া আধুনিক চাকরির বাজারের সঙ্গে নিজেদের জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। কিছু ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন যে এআই আজ বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন শিল্পকে চিরতরে বদলে দিচ্ছে। তাই তাঁরা পরিবর্তনের তীব্র বিরোধিতা না করে, এআই-সম্পর্কিত নতুন নতুন স্কিল বা দক্ষতা অর্জন করে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য তাঁকে বিশেষভাবে উৎসাহিত করেছেন।
অন্যরা তাঁকে মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, যে অসাধারণ প্রতিভা ও মেধা তাঁকে একসময় নিজগুণে মাসে ২ লাখ টাকা আয় করতে সাহায্য করেছিল, সেই প্রতিভা আজও তাঁর মধ্যেই অক্ষুণ্ণ আছে এবং সেই মেধা ও অভিজ্ঞতার জোরেই তিনি ভবিষ্যতে আবারও একইরকম বা তার চেয়েও বড় সাফল্য অর্জন করতে পারবেন। বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ মন্তব্যকারী তাঁকে নিজস্ব ফ্রিল্যান্স ব্যবসা নতুন করে পুনর্গঠন করার, পেশাদার নেটওয়ার্ক আরও বাড়িয়ে তোলার এবং আরও ভালো সুযোগের অপেক্ষা করার পাশাপাশি নিয়মিত নিজের স্কিল আপগ্রেড করার পরামর্শ দিয়েছেন। অনেকেই আবার নিজেদের কেরিয়ারের কঠিন দিনে বিরতির পর কম বেতনে চাকরি নেওয়ার বাস্তব গল্প শুনিয়েছেন। তাঁরা তাঁকে আশ্বস্ত করে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে জীবনের এই ধরনের সাময়িক ধাক্কা কখনওই দীর্ঘমেয়াদী কেরিয়ারের ভবিষ্যৎকে পুরোপুরি নির্ধারণ করতে পারে না।