কাশীতে বিজেপির মাস্টারস্ট্রোক! ওবিসি তাস খেলেই কি ২০২৭-এর জয়ের ছক?

২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে বড়সড় সাংগঠনিক বদল আনল ভারতীয় জনতা পার্টি। বারাণসী বা কাশী অঞ্চলে দলের তিনটি প্রধান দপ্তরের দায়িত্বই এখন অনগ্রসর (OBC) সম্প্রদায়ের নেতাদের হাতে। বিশেষ করে অশোক চৌরাসিয়াকে কাশী অঞ্চলের আঞ্চলিক সভাপতি নিযুক্ত করার মাধ্যমে বিজেপি একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা দিল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কেন এই রদবদল? দীর্ঘ ১২ বছর ধরে কাশী অঞ্চলের আঞ্চলিক সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করা অশোক চৌরাসিয়াকে এখন সভাপতি করা হয়েছে। তাঁর অধীনে থাকবে ১৬টি জেলার ৭১টি বিধানসভা আসন। এর পাশাপাশি, মহানগরে প্রদীপ আগ্রাহারি এবং জেলা সংগঠনের দায়িত্বে রয়েছেন রাম সকল প্যাটেল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সমাজবাদী পার্টির ‘পিডিএ’ (PDA) ফর্মুলা মোকাবিলায় ওবিসি ভোটব্যাঙ্ককে একজোট করতেই এই কৌশল নিয়েছে বিজেপি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণ
ভোটের সমীকরণ: বারাণসীতে চৌরাসিয়া সম্প্রদায়ের ভোটার সংখ্যা প্রায় ৫০,০০০। লোকসভা নির্বাচনে ছোট ছোট ভোটব্যাঙ্কগুলো সমাজবাদী পার্টির দিকে ঝুঁকে পড়ায় যে ঘাটতি তৈরি হয়েছিল, তা পূরণ করতেই বিজেপি অভিজ্ঞ সাংগঠনিক নেতা অশোক চৌরাসিয়াকে সামনে এনেছে।
বার্তা: রাজনৈতিক বিশ্লেষক বিজয় নারায়ণের মতে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দলের উচ্চবর্ণের কর্মীদের বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, সংগঠনকে শক্তিশালী রাখার দায়িত্ব তাঁদেরই নিতে হবে, আর নেতৃত্বের সামনের সারিতে থাকবেন অনগ্রসর সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা।
প্রস্তুতি: বুথ স্তর পর্যন্ত কর্মীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকা অশোক চৌরাসিয়ার সাংগঠনিক দক্ষতা আসন্ন নির্বাচনে দলকে অক্সিজেন জোগাবে বলে মনে করছে গেরুয়া শিবির।
অশোক চৌরাসিয়া: একজন অভিজ্ঞ নেতা বিজেপির নিচুতলার কর্মী থেকে উঠে আসা অশোক চৌরাসিয়া যেমন রাজনীতির ময়দানে দক্ষ, তেমনই একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবেও পরিচিত। ‘সংকল্প টিউটোরিয়ালস’ নামে তাঁর কোচিং সেন্টার এবং তাঁর সাংগঠনিক সূক্ষ্মতা দলের অন্দরে বেশ সমাদৃত।
কাশীতে এখন পুরোপুরি ওবিসি-কেন্দ্রিক রাজনীতির এই নতুন অধ্যায় ২০২৭-এর ভোটবাক্সে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।