“রাস্তায় জরিমানা দিয়েই পার পাবেন না!”-কোন ভুলে সরাসরি যেতে হতে পারে ট্রাফিক আদালতে?

ট্রাফিক আইন ভাঙলে পুলিশ চালান দেবে, আর নির্ধারিত জরিমানা দিয়ে সেই ঝামেলা চুকে যাবে—অধিকাংশ চালকের ধারণাই এমন। কিন্তু এই ধারণা সবসময় সঠিক নয়। সব ট্রাফিক লঙ্ঘন কেবল জরিমানার বিনিময়ে নিষ্পত্তিযোগ্য নয়। কিছু গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে পুলিশ ঘটনাস্থলে জরিমানা নিতে পারে না, বরং মামলাটি সরাসরি পাঠানো হয় আদালতে। একেই বলা হয় ‘কোর্ট চালান’।

সাধারণ চালান বনাম কোর্ট চালান: পার্থক্য কোথায়? ট্রাফিক আইন অনুযায়ী চালান মূলত দুই ধরনের:

  • আপসযোগ্য চালান: সাধারণ নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে পুলিশ নির্ধারিত জরিমানা আদায় করে ঘটনাস্থলেই বিষয়টি নিষ্পত্তি করে দেয়।

  • কোর্ট চালান: গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে পুলিশ কেবল অপরাধটি নথিভুক্ত করে। এক্ষেত্রে ঘটনাস্থলে কোনো অর্থ লেনদেনের ক্ষমতা পুলিশের নেই। মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং শাস্তির বিষয়টি আদালত নির্ধারণ করে।

কোন কোন ভুলে সরাসরি আদালত? সাধারণ ট্রাফিক জরিমানার বাইরে যেসব অপরাধকে গুরুতর হিসেবে দেখা হয় এবং সরাসরি আদালতে মামলা হতে পারে:

  • বিপজ্জনক বা বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানো।

  • মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো।

  • ভুল পথে (ওয়ান ওয়ে রাস্তায় উল্টো দিক) গাড়ি চালানো।

  • ট্রাফিক সিগন্যাল বা বাধ্যতামূলক ‘স্টপ সাইন’ উপেক্ষা করা।

  • অনিরাপদভাবে ওভারটেকিং।

  • অপ্রাপ্তবয়স্কর হাতে গাড়ির স্টিয়ারিং তুলে দেওয়া।

  • ফুটপাত বা সাইকেল ট্র্যাক দিয়ে গাড়ি চালানো।

আদালতের নোটিস পেলে করণীয় কী? আদালতের চালান বা নোটিস পাওয়ার অর্থ হলো, আপনাকে বিচারকের সামনে হাজির হতে হতে পারে। অনেক চালক এই নোটিসকে গুরুত্ব দেন না, যা মারাত্মক আইনি জটিলতা তৈরি করতে পারে।

  • সতর্কতা: নোটিশে থাকা আদালত, শুনানির তারিখ এবং অন্যান্য আইনি নির্দেশাবলী ভালো করে পড়ুন। কোনোভাবেই এই নোটিস এড়িয়ে যাবেন না।

  • অধিকার: তেলঙ্গানা হাইকোর্টসহ বিভিন্ন রাজ্যের সাম্প্রতিক নির্দেশ অনুযায়ী, পুলিশ কোনো চালককে ঘটনাস্থলেই বকেয়া সমস্ত ই-চালান পরিশোধ করতে বাধ্য করতে পারে না। আইনানুগ যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা পুলিশের দায়িত্ব।

বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের প্রকৃতি অনুযায়ী শাস্তির ধরণ আলাদা হয়। সব অপরাধকে একই কাতারে ফেলা ভুল। তাই রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে তর্কের আগে বা চালান পাওয়ার পর এটি ‘সাধারণ চালান’ নাকি ‘কোর্ট চালান’, তা যাচাই করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। মনে রাখবেন, সড়ক নিরাপত্তার ঝুঁকি বা গুরুতর আইন ভঙ্গের ক্ষেত্রে রাস্তার পাশের আপস আর কাজ করবে না, আপনাকে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতেই হবে।