হাসপাতালের ভেতর জল, ডুবল শহর! বজ্রপাতের তাণ্ডবে দিশেহারা কলকাতা, জারি লাল সতর্কতা

ক্যালেন্ডার বলছে ভরা দুপুর, কিন্তু বৃহস্পতিবার ঝড়ের ঝাপটায় মুহূর্তের মধ্যে অন্ধকার নেমে এল শহর কলকাতায়। প্রবল ঝড়-বৃষ্টি আর মুহুর্মুহু বজ্রপাতের তাণ্ডবে কার্যত হাঁটু জলে ডুবল মহানগরী। অস্বস্তিকর গরমের হাত থেকে স্বস্তি মিললেও, এই অকাল দুর্যোগে নাজেহাল শহরবাসী।
জলমগ্ন কলকাতা ও হাসপাতাল: টানা বৃষ্টিতে শহরের অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ এলাকা কার্যত জলের তলায়। ইএম বাইপাস, মা ফ্লাইওভার, সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ, এমজি রোড ও আমহার্স্ট স্ট্রিটের মতো জনবহুল রাস্তায় জল জমে তীব্র যানজট তৈরি হয়েছে। জলমগ্ন সল্টলেক, বেলঘরিয়া ও বাগুইআটির বিস্তীর্ণ অঞ্চল।
সবথেকে উদ্বেগজনক ছবি ধরা পড়েছে কলকাতার সরকারি হাসপাতালগুলোতে। আরজি কর হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে শুরু করে স্ত্রীরোগ বিভাগ—সবই জলের নিচে। একই বেহাল দশা এসএসকেএম হাসপাতালের কার্ডিওলজি ও স্ত্রীরোগ বিভাগের। জরুরি পরিষেবা ব্যাহত হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে রোগী ও তাঁদের আত্মীয়রা।
কেন এই পরিস্থিতি? কী বলছে হাওয়া অফিস? আলিপুর আবহাওয়া দফতরের মতে, উত্তর রাজস্থান থেকে বিহার পর্যন্ত বিস্তৃত নিম্নচাপ অক্ষরেখা এবং বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় ঘূর্ণাবর্তের ফলে প্রচুর জলীয় বাষ্প রাজ্যে ঢুকছে। এর জেরেই এই প্রবল দুর্যোগ।
বজ্রপাত নিয়ে বিশেষ সতর্কতা: আবহবিদদের উদ্বেগ, কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চল ক্রমে ‘বজ্রপাত-প্রবণ’ এলাকায় পরিণত হচ্ছে। আগামী কয়েক ঘণ্টায় আরও বৃষ্টি ও ৪০-৫০ কিমি বেগে দমকা হাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে।
লাল সতর্কতা (Red Alert): পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামের জন্য বিশেষ লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
সতর্কতা: কলকাতা, হাওড়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং নদিয়ায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রশাসনের জরুরি পরামর্শ: ১. বজ্রপাতের সময় গাছ বা বৈদ্যুতিক খুঁটির নিচে আশ্রয় নেবেন না। ২. জলাশয় থেকে দূরে থাকুন। ৩. যতটা সম্ভব ঘরের ভেতর থাকার চেষ্টা করুন।
তীব্র ঝঞ্ঝার এই তাণ্ডব কবে থামবে এবং দুর্যোগের মোকাবিলায় প্রশাসন কী ব্যবস্থা নেয়, সেদিকেই এখন নজর সকলের। আপনার এলাকায় পরিস্থিতি কেমন? কমেন্ট করে জানান।