তারাতলা কাণ্ডে নয়া মোড়! ধ্বংসস্তূপের নিচে আর কতজন? জেরা করা হবে পুরসভার আধিকারিকদেরও: পুলিশ

তারাতলার ভয়াবহ গুদামঘর বিপর্যয়কাণ্ডে তদন্তের পরিধি ক্রমশ বাড়ছে। ইতিমধ্যে ১১ জনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ১৯ জন গুরুতর আহত অবস্থায় এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। কিন্তু সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, নির্মাণাধীন ওই গুদামে ঠিক কতজন শ্রমিক কাজ করছিলেন, তার কোনও সঠিক তথ্য বা হাজিরা রেজিস্টারই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে ধ্বংসস্তূপের নিচে আর কেউ আটকে আছেন কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না।
গ্রেফতারের তালিকায় কারা? লালবাজার সূত্রে খবর, এই ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করে ৫ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছিল। যার মধ্যে আজগর হুসেন নামে এক অভিযুক্তের দেহ ইতিমধ্যেই ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হয়েছে। বাকি ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ:
মহম্মদ গুলজার: অয়ন ট্রেডার্সের বিল্ডিং সুপারভাইজার।
শম্ভুনাথ বেহেরা: বন্দরের জমি লিজ নেওয়া বেহরা ব্রাদার্সের মালিক।
কমল সামন্ত: লোহার কাঠামো প্রস্তুতকারক।
দিবাকর ভাণ্ডারী: শ্রমিক সরবরাহকারী।
আব্দুল হামিদ: পুরসভার নকশা অনুমোদনের দালাল (ধৃত)।
জেরার নতুন তালিকা তৈরি: তদন্তকারী সংস্থা এখন ঘটনার গভীরে পৌঁছাতে একগুচ্ছ পদক্ষেপ নিয়েছে। কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার জানিয়েছেন, বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে: ১. বেঁচে ফেরা শ্রমিক: ধ্বংসস্তূপ থেকে যাদের জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে, তাঁদের বয়ান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে পুলিশ। ২. উদ্ধার হওয়া মোবাইল: ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া ফোনগুলো ঘেঁটে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। ফোনের সূত্র ধরে আরও অনেকের ডাক পড়তে পারে। ৩. পুরসভার আধিকারিক: কলকাতা পুরসভার কাছে ঘটনার যাবতীয় নথিপত্র তলব করেছে পুলিশ। প্রয়োজন পড়লে পুর আধিকারিকদেরও জেরা করা হবে।
উল্লেখ্য, রাজ্য সরকার আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত কলকাতা ও শহরতলিতে সমস্ত নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। পুলিশি তদন্তের পরবর্তী মোড় এখন কোন দিকে যায়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে শহরবাসী।