মোথাবাড়িকাণ্ডে বড় সাফল্য এনআইএ-র! গ্রেপ্তার কংগ্রেস প্রার্থী সায়েম চৌধুরী

মালদার মোথাবাড়িতে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের আটকে রাখার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় আরও এক বড় গ্রেপ্তারি করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। বুধবার দীর্ঘ ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের পর মোথাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী সায়েম চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেছেন এনআইএ আধিকারিকরা। এই গ্রেপ্তারের ফলে মোথাবাড়িকাণ্ডে মোট ধৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩০-এ পৌঁছাল।
কী অভিযোগ সায়েম চৌধুরীর বিরুদ্ধে? তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ-র দাবি, গত ১ এপ্রিল মোথাবাড়ির কালিয়াচক-২ ব্লক অফিসে বিচারকদের ঘেরাও এবং হেনস্থার ঘটনায় সায়েম চৌধুরীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তাঁর বিরুদ্ধে প্রধানত যে অভিযোগগুলি উঠেছে:
উত্তেজিত জনতাকে উস্কানি: পরিকল্পিতভাবে বেআইনি জমায়েত করে ব্লক অফিস ঘেরাও করার পেছনে সায়েমের সক্রিয় মদত ছিল।
উস্কানিমূলক মন্তব্য: ঘটনার সময় তাঁকে উপস্থিত জনতাকে উস্কানিমূলক মন্তব্য করতে শোনা গিয়েছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি।
ষড়যন্ত্রে লিপ্ত: বিচারকদের দীর্ঘ সময় আটকে রেখে তাঁদের শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্থা করার পুরো প্রক্রিয়ায় তিনি ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে যুক্ত ছিলেন বলে এনআইএ-র প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য, গত ১ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIR) কাজে মালদার মোথাবাড়িতে গিয়েছিলেন সাতজন বিচার বিভাগীয় আধিকারিক। অভিযোগ, সেই সময় স্থানীয়রা তাঁদের ব্লক অফিসে প্রায় সাড়ে আট ঘণ্টা আটকে রাখেন। গভীর রাতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী তাঁদের উদ্ধার করতে গেলে গাড়ির ওপরও হামলা চালানো হয়। এক বিচারকের ভাইরাল হওয়া অডিও ক্লিপে চরম আতঙ্কের চিত্র ফুটে উঠেছিল।
এই ঘটনার গুরুত্ব বুঝে তদন্তভার নেয় এনআইএ। এর আগেই এই ঘটনায় আইএসএফ প্রার্থী শাহজাহান আলি কাদরি, মূল ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে অভিযুক্ত আইনজীবী মোফাক্কারুল ইসলাম এবং স্থানীয় তৃণমূল নেতা শামসুল হকসহ একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
নিজেদের কর্মপদ্ধতি ও তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে এনআইএ এখন এই পুরো ঘটনার গভীরে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। সায়েম চৌধুরীর গ্রেপ্তারি এই মামলার তদন্তে নতুন গতি আনবে বলেই মনে করা হচ্ছে।