তারাতলায় গোডাউন বিপর্যয়: ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে ১২-১৫ জন! অক্সিজেন-জল পৌঁছাতে মরিয়া প্রশাসন

তারাতলায় নির্মীয়মাণ গোডাউন ভেঙে পড়ার ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলাকায়। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, এই দুর্ঘটনায় অন্তত ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৮ জন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ তদারকি করতে আজ বিকেলে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
ভিতরে আটকে বহু, চলছে অক্সিজেন সরবরাহ
ঘটনাস্থলে পৌঁছেই মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে NDRF এবং সেনাবাহিনী। তিনি জানান, “আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। NDRF এবং সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এখনও ১২ থেকে ১৫ জন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে রয়েছেন। তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে এবং জীবিতদের কাছে অক্সিজেন ও জল পৌঁছানোর কাজ শুরু হয়েছে। আশা করছি দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করা সম্ভব হবে।”
নকশায় বড় ত্রুটি, তদন্তের নির্দেশ
দুর্ঘটনার প্রাথমিক কারণ নিয়ে মুখ খুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ওই গোডাউনের নির্মাণ নকশাতেই মারাত্মক ত্রুটি ছিল। চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি এই নকশা অনুমোদন করা হয়েছিল। কীভাবে ত্রুটিপূর্ণ নকশা পাস হলো, তা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। শুভেন্দু বলেন, “আমি নিজে দেখেছি, ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ত্রুটির কারণেই কাঠামোটি নাট থেকে স্লিপ করে উল্টে গেছে।”
কলকাতা পুরসভা এলাকায় বড় পদক্ষেপ
এই ঘটনার পরেই রাজ্যজুড়ে বাণিজ্যিক নির্মাণ নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কলকাতা পুরসভা এলাকার সমস্ত বাণিজ্যিক নির্মাণের কাজ বন্ধ রাখতে হবে। তিনি জানিয়েছেন:
মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হবে।
কলকাতা মেট্রো ও কলকাতা পোর্টের নির্মাণকাজও তদন্তের আওতায় আসবে।
যাদের নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত ও নিয়ম মেনে হচ্ছে, শুধুমাত্র তাদেরই ১ আগস্ট থেকে কাজ শুরুর অনুমতি দেওয়া হতে পারে।
মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া পদক্ষেপের পর সংশ্লিষ্ট নির্মাণ সংস্থাগুলোর ওপর যে বড়সড় আইনি খাঁড়া নেমে আসতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য। ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলেই মনে করছে প্রশাসন।