খুনের পর কান্না, পুলিশের জেরায় ভাঙল মুখোশ, হবু স্ত্রীর জন্মদিনের ট্রিপে রহস্যমৃত্যু পুণের ব্যবসায়ীর!

পুণের রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়াল হত্যাকাণ্ডে সামনে এল এক ভয়াবহ সত্য। বিয়ের পিঁড়িতে বসার বদলে হবু স্ত্রী সিয়া গোয়াল এবং তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধুরীর ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে লোহাগড় দুর্গের ৪০০ ফুট গভীর খাদে প্রাণ হারালেন ২৬ বছর বয়সি এই যুবক। ঘটনার পর সিয়াকে ২৯ জুন পর্যন্ত এবং প্রেমিক চেতনকে এক সপ্তাহের পুলিশি হেফাজতে পাঠিয়েছে পুণে দায়রা আদালত।

প্রাথমিকভাবে একে ‘ট্রেকিং দুর্ঘটনা’ মনে করা হলেও, কেতনের বোনের তীক্ষ্ণ প্রশ্ন আর সিয়ার অসঙ্গতিপূর্ণ উত্তরের সূত্র ধরেই পর্দাফাঁস হয় এই নিখুঁত খুনের ষড়যন্ত্রের। পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, সিয়া ও চেতন গত তিন বছর ধরে গভীর সম্পর্কে লিপ্ত ছিলেন। পুলিশি নথিতে চমকপ্রদ তথ্য, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে সিয়া ও চেতনের মধ্যে ২০০০ বারের বেশি ফোনালাপ হয়েছে, যার মোট সময়কাল ২৩৮ ঘণ্টা! শুধু তা-ই নয়, এই হত্যাকাণ্ডের আগে অন্তত তিনবার কেতনকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন তাঁরা। একবার তো সাপের হাত থেকে বাঁচানোর ভান করে কেতনকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন সিয়া।

১৮ জুন সিয়ার জন্মদিন উদযাপনের অজুহাতেই কেতনকে লোহাগড় দুর্গে নিয়ে যান সিয়া। পুলিশের দাবি, চেতন অত্যন্ত সতর্ক ছিলেন। নিজের অবস্থান লুকাতে তিনি ব্যক্তিগত ফোন দোকানে রেখে অন্য একজনের ফোন নিয়ে ওই এলাকায় ঘোরাফেরা করছিলেন। তবে তীব্র গরমেও চেতনের ‘হুডি’ পরা অস্বাভাবিক বেশভূষা সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ে যায়, যা তদন্তে বড় মোড় নেয়। পুলিশের মতে, এটি কেবল একটি সাধারণ খুন নয়, অত্যন্ত সুপরিকল্পিত অপরাধ। সম্পর্কের আড়ালে থাকা এই বিশ্বাসঘাতকতার খবর শুনে শোকস্তব্ধ দুই পরিবার। রাজকীয় বিয়ের সমস্ত প্রস্তুতি ছিল তুঙ্গে, কিন্তু সেই আনন্দের পরিবেশই কাল হয়ে দাঁড়াল কেতনের জন্য। বর্তমানে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে খুন, ষড়যন্ত্র ও তথ্যপ্রমাণ লোপের ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।