লাইনে দাঁড়ানোর দিন শেষ, আধার আপডেটে নতুন রেকর্ড, অ্যাপেই মিটবে সব ঝামেলা!

আধুনিক প্রযুক্তির দৌলতে জীবনযাত্রায় এসেছে আমূল পরিবর্তন। সরকারি পরিষেবার ক্ষেত্রেও ডিজিটাল ব্যবস্থার প্রসার ঘটছে দ্রুতগতিতে। এরই মধ্যে এক অভূতপূর্ব মাইলফলক স্পর্শ করল সরকারি ‘আধার অ্যাপ’। মাত্র পাঁচ মাস আগে লঞ্চ হওয়া এই অ্যাপের ডাউনলোডের সংখ্যা ইতিমধ্যেই ৩১ মিলিয়নের গণ্ডি পেরিয়ে গিয়েছে। প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোর (PIB) সাম্প্রতিক এক প্রেস বিবৃতিতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে।

বর্তমানে ঘরে বসেই আধার সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজ করা সম্ভব হচ্ছে, যার ফলেই অ্যাপটির ব্যবহারকারীর সংখ্যা লাফিয়ে বাড়ছে বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। পিআইবি-র তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত প্রায় ৪০ লক্ষ মানুষ এই অ্যাপটি ব্যবহার করে তাদের ফোন নম্বর আপডেট করেছেন। পাশাপাশি, প্রায় সাড়ে আট লক্ষ মানুষ সফলভাবে নিজেদের ঠিকানাও আপডেট করতে সক্ষম হয়েছেন। উল্লেখ্য, এক সময় এই ছোটখাটো কাজগুলোর জন্য স্থানীয় আধার সেবা কেন্দ্রে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নষ্ট করতে হতো। এখন সেই ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেয়েছেন সাধারণ মানুষ।

গত বছরের ৯ নভেম্বর ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (UIDAI) নতুন এই আধার অ্যাপটি লঞ্চ করেছিল। এই অ্যাপের মাধ্যমে নাগরিকরা তাঁদের আধার কার্ড সুরক্ষিতভাবে ডিজিটাল ফরম্যাটে সেভ করে রাখতে পারছেন এবং প্রয়োজনে অন্যদের সঙ্গে কার্ডের তথ্য শেয়ার করার সুবিধাও পাচ্ছেন।

তৎকালীন পুরনো ‘mAadhaar’ অ্যাপটি বন্ধ করে দেওয়ার পর থেকে UIDAI সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়েছে এই নতুন ও উন্নত অ্যাপটির ওপর। UIDAI-এর মতে, নতুন এই আধার অ্যাপটি অনেক বেশি স্মার্ট, দ্রুত এবং নিরাপদ। এতে রয়েছে কিউআর (QR) কোড নির্ভর আধার শেয়ারিংয়ের সুবিধা, যা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করতে সাহায্য করে। এই অ্যাপটি ভারতের ১৩টি আঞ্চলিক ভাষায় ব্যবহার করা যায়, যা সারা দেশের মানুষের কাছে একে সহজলভ্য করে তুলেছে।

এই অ্যাপটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এর কিউআর-নির্ভর পরিচয় যাচাইকরণ পদ্ধতি। এখন থেকে আধার নম্বর, ফোন নম্বর, জন্মতারিখ বা ঠিকানা—কোনো ব্যক্তিগত স্পর্শকাতর তথ্য প্রদর্শন না করেই শুধুমাত্র কিউআর কোড স্ক্যান করে পরিচয় ভেরিফাই করা সম্ভব। এর ফলে জালিয়াতির ভয় অনেকটাই কমবে এবং তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত হবে।

অ্যান্ড্রয়েড এবং আইওএস—উভয় প্ল্যাটফর্মের জন্যই এই অ্যাপটি উপলব্ধ। ফলে স্মার্টফোন ব্যবহারকারী প্রায় সব নাগরিকই এই ডিজিটাল পরিষেবার সুবিধা নিতে পারছেন। আপনি যদি এখনও এই অ্যাপটি ইনস্টল না করে থাকেন, তবে এখনই প্লে-স্টোর বা অ্যাপ-স্টোর থেকে এটি ডাউনলোড করে নিতে পারেন। সরকারি পরিষেবাকে আরও দ্রুত, স্বচ্ছ এবং ঝামেলামুক্ত করতে এই আধার অ্যাপ এখন সাধারণ মানুষের নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠছে।