বিশ্বকাপে অঘটনের রাত, ঘানার রক্ষণ দেয়ালে আটকে থ্রি লায়ন্স, কলম্বিয়ার জয়জয়কার

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের মঞ্চে মঙ্গলবার রাতে দুই ভিন্ন মেরুর লড়াই প্রত্যক্ষ করল ফুটবল বিশ্ব। একদিকে ছিল এবারের টুর্নামেন্টের অন্যতম শক্তিশালী আক্রমণভাগ হিসেবে পরিচিত ইংল্যান্ড, আর অন্যদিকে আফ্রিকান ফুটবলের অদম্য লড়াকু দল ঘানা। পুরো ৯০ মিনিট শারীরিক সক্ষমতা আর ট্যাকটিক্যাল লড়াইয়ে ইংল্যান্ডকে কার্যত কোণঠাসা করে রেখে এক পয়েন্ট তুলে নিল ঘানা। অন্য ম্যাচে জয় পেয়েছে কলম্বিয়া।

ইংল্যান্ড বনাম ঘানা ম্যাচে প্রথমার্ধ থেকেই থ্রি লায়ন্সরা ঘানার রক্ষণভাগের গোলকধাঁধায় হারিয়ে গিয়েছিল। কোচ টুখেল তার দলের আক্রমণভাগকে ধারালো করতে একাধিক পরিবর্তন আনলেও কোনো লাভ হয়নি। ম্যাচের ১০ মিনিটের মাথায় জুড বেলিংহ্যাম ও হ্যারি কেনের জুটিতে তৈরি হওয়া একটি আক্রমণ ঘানার ডিফেন্ডাররা যেভাবে নস্যাৎ করেন, তা থেকেই স্পষ্ট ছিল যে ইংরেজদের জন্য আজ কঠিন দিন অপেক্ষা করছে। অ্যান্টনি গর্ডন বা হ্যারি কেন কেউই ঘানার জোনাল মার্কিংয়ের ফাঁদ কাটাতে পারেননি।

ম্যাচটি যেন ফুটবল নয়, কুস্তিতে পরিণত হয়েছিল। ২১ মিনিটে রিসি জেমসের সঙ্গে সংঘর্ষে ঘানার অধিনায়ক জর্ডন আয়েউর মাথা ফেটে যায়। ব্যান্ডেজ বেঁধে লড়াকু মেজাজে তিনি পুরো ম্যাচ খেলেন। দ্বিতীয়ার্ধে জয় নিশ্চিত করতে কোচ টুখেল বুকায়ো সাকা, নিকো ও’রেইলি এবং শেষ দিকে মার্কাস র‌্যাশফোর্ডকে মাঠে নামান। কিন্তু ৮৬ মিনিটে হ্যারি কেনের সহজ সুযোগ মিস এবং ও’রেইলির হেড পোস্টে লেগে ফিরে আসা—সব মিলিয়ে দিনটি ইংল্যান্ডের ছিল না। আক্রমণের বৈচিত্র্যহীনতায় ড্র করেই মাঠ ছাড়তে হলো ১৯৬৬-র চ্যাম্পিয়নদের।

অন্যদিকে, মেক্সিকোর মাঠে ডি আর কঙ্গোকে ১-০ গোলে হারিয়ে রাউন্ড অফ ৩২-এ জায়গা পাকা করল কলম্বিয়া। ৭৬ মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেন মূনজ। প্রথমার্ধ থেকে কঙ্গো লড়াই করলেও গোলকিপার এবং কলম্বিয়ার জমাট রক্ষণের সামনে তাদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। ম্যাচটিতে দর্শকদের বাড়তি আকর্ষণ ছিল ডি আর কঙ্গোর বিখ্যাত ‘স্ট্যাচু ফ্যান’ মিশেল এনকুকা এমবোলাডিঙ্গা। আফ্রিকা কাপ অফ নেশনসে প্যাট্রিস লুমুম্বার মূর্তির অনুকরণে স্থির দাঁড়িয়ে থেকে তিনি খ্যাতি পেয়েছিলেন, এদিনও হারের মুহূর্তে তাকে গ্যালারিতে একইভাবে নিশ্চল দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

সব মিলিয়ে, মঙ্গলবার ফিফা বিশ্বকাপের মঞ্চে যেমন একদিকে অঘটনের চিত্র দেখা গেল, তেমনই কলম্বিয়ার মতো দল নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করে পরের রাউন্ডে নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করল। ইংল্যান্ডের জন্য এই ড্র অবশ্যই একটি সতর্কবার্তা হয়ে থাকবে।