ফের কলকাতা হাইকোর্টে ধাক্কা খেলেন অভিষেক! বিদেশ যাওয়ার আর্জি খারিজ করে কী জানাল আদালত?

ফের আইনি জটিলতার মুখে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক এবং ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাত্রার অনুমতি চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। তবে, সেই আবেদনে তাৎক্ষণিক স্বস্তি মিলল না তাঁর। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আবেদন জানানো হলেও, আদালত তা খারিজ করে দিয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট:
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী আদালতে জানান, তাঁর মক্কেলের চোখে অস্ত্রোপচার হয়েছিল এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে আরও উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়া অত্যন্ত জরুরি। আদালতের কাছে এক সপ্তাহের জন্য বিদেশ ভ্রমণের অনুমতি এবং দ্রুত শুনানির আবেদন করা হয়। আইনজীবী আদালতের পুরনো অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষার বিষয়টিও উল্লেখ করেন। প্রসঙ্গত, একটি উস্কানিমূলক মন্তব্যের মামলায় আদালত এর আগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষা প্রদান করেছিল। সেই আদেশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল যে, আদালতের অনুমতি ছাড়া তিনি দেশত্যাগ করতে পারবেন না। সেই শর্ত মেনেই তিনি ফের অনুমতি চেয়ে আবেদন জানিয়েছিলেন।
আদালতের অবস্থান:
বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য জরুরি শুনানির আবেদনটি তাৎক্ষণিকভাবে গ্রহণ করেননি। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, কোনো বিশেষ জরুরি কারণ থাকলেও তা সাধারণ বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সম্পন্ন হবে। অর্থাৎ, দ্রুত শুনানির জন্য আলাদা করে কোনো বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। বিচারপতির এই সিদ্ধান্তের ফলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আপাতত সাধারণ আইনি প্রক্রিয়ার অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে।
রাজনৈতিক ও আইনি জল্পনা:
বর্তমানে রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে সাংগঠনিক চাপের পাশাপাশি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনি লড়াই বেশ চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কয়লা পাচার এবং নিয়োগ দুর্নীতিসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই ও ইডি তাঁকে বারবার তলব করেছে। এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসার কারণ দেখিয়ে বারবার আদালতের দ্বারস্থ হওয়া নতুন কিছু নয়।
তবে হাইকোর্টের এই সিদ্ধান্তে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল পড়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, কেন্দ্রীয় সংস্থার নজরদারি এবং একের পর এক আইনি লড়াইয়ের মুখে এই আবেদন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, আদালত নিজস্ব বিচারপদ্ধতি এবং নথিপত্রের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেয়, যেখানে রাজনৈতিক চাপ বা প্রভাবের কোনো স্থান নেই। তবুও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধীরা তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর চাপ বাড়াতে শুরু করেছে। এখন দেখার বিষয়, আগামী দিনে আইনি প্রক্রিয়ায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় শেষ পর্যন্ত বিদেশ যাওয়ার অনুমতি পান কি না, নাকি এই জটিলতা আরও দীর্ঘস্থায়ী হয়।