পিএসি চেয়ারম্যান পদ দখল নিয়ে জোর টক্কর! নজিরবিহীন ভোটাভুটির পথে বিধানসভা

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ কমিটি ‘পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি’ বা পিএসি (PAC) গঠনকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি বিধানসভার তরফে এই কমিটি গঠনের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে এবং নির্বাচনের জন্য ৫ জুলাই তারিখটি চূড়ান্ত করা হয়েছে। পরিষদীয় নিয়ম অনুযায়ী, পিএসি-তে চেয়ারম্যান-সহ সর্বোচ্চ ২০ জন সদস্য থাকতে পারেন। যদি ২০ জনের বেশি প্রার্থী মনোনয়ন জমা দেন, তবে কমিটির সদস্যদের নির্বাচনের জন্য ভোটাভুটি হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল, যা সাম্প্রতিক বিধানসভার ইতিহাসে কার্যত নজিরবিহীন।

বিধানসভার মোট ১১টি স্ট্যান্ডিং কমিটি এবং প্রায় ২০টি হাউস কমিটির মধ্যে পিএসি-কে সবথেকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। প্রথাগতভাবে, এই কমিটির চেয়ারম্যান পদটি প্রধান বিরোধী দলের কোনো সদস্যের পাওয়ার কথা। তবে অতীতে তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনকালে এই প্রথা লঙ্ঘনের বহু নজির রয়েছে। অতীতে মুকুল রায়, কৃষ্ণ কল্যাণী, সুমন কাঞ্জিলাল কিংবা তারও আগে মানস ভুঁইয়াকে পিএসি-র দায়িত্ব দেওয়া নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। শাসক দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তারা বিরোধী শিবিরের বিধায়কদের ভাঙিয়ে এনে পিএসি-র মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়ে কৌশলে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চেয়েছে।

বর্তমানে বিধানসভার রাজনৈতিক সমীকরণ অত্যন্ত জটিল। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একটি বড় সংখ্যক বিধায়ক দলত্যাগ বা ভিন্নমতের পথে হাঁটায় বিরোধী দলনেতা কে হবেন, তা নিয়ে আইনি ও সাংবিধানিক জটিলতা চলছে। এই বিষয়টি এখন আদালতের বিচারাধীন। এই পরিস্থিতিতে নতুন করে পিএসি গঠনের বিজ্ঞপ্তি জারির পর শাসক দলের অন্দরেই একাধিক গোষ্ঠী এই সম্মানীয় পদটি পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে প্রধান বিরোধী দলগুলিও তাদের দাবি জোরালো করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের পিএসি নির্বাচন শুধুমাত্র একটি কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া নয়, বরং বিধানসভায় ক্ষমতার ভারসাম্যের লড়াইও বটে। অতীতে একাধিকবার বিরোধী বিধায়কদের পিএসি চেয়ারম্যান করে বিতর্ক তৈরি হওয়ায় এবারের নির্বাচন ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যেও কৌতূহল তুঙ্গে। যদি সত্যিই ভোটাভুটি হয়, তবে তা বিধানসভার ইতিহাসে এক বড় ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হবে। শেষ পর্যন্ত কার মাথায় ওঠে পিএসি চেয়ারম্যানের মুকুট, তা জানতে ৫ জুলাইয়ের দিকে তাকিয়ে রাজ্যবাসী।