কলেজ স্ট্রিটের তাকে জমে থাকা ধুলো ঝেড়ে নতুন ট্রেন্ড! শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বইয়ের খোঁজে রেকর্ড ভিড়

দীর্ঘদিন ধরে কলেজ স্ট্রিটের বইয়ের দোকানের আলমারিতে অবহেলায় পড়ে ছিল শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে নিয়ে লেখা বইগুলো। ধুলো জমেছিল ইতিহাসের পাতায়। কিন্তু বাংলার বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে চিত্রটা পুরোপুরি বদলে গিয়েছে। পাঠকরা এখন অতীতের শিকড় খোঁজার তাগিদে প্রবলভাবে আগ্রহী। এশিয়ানেট নিউজ বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৃত্যুর সাত দশকেরও বেশি সময় পর ভারত কেশরী শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবনী ও চিন্তাধারা নিয়ে পাঠকের আগ্রহ এখন তুঙ্গে।

কলেজ স্ট্রিটের বই বিক্রেতাদের অভিজ্ঞতা, এক দশক আগেও এই বইগুলো ছিল কার্যত অবিক্রিত। বছরে হয়তো দু-একটি কপি বিক্রি হতো। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির পালাবদলের পর থেকেই দৃশ্যপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিক্রেতাদের দাবি, এখন প্রতিদিন অন্তত ১৫টি করে কপি বিক্রি হচ্ছে। এক বই বিক্রেতা জানান, “নতুন সরকার শপথ নেওয়ার পর থেকেই মানুষ নির্দিষ্টভাবে শ্যামাপ্রসাদের ওপর লেখা বইয়ের খোঁজ করছেন।”

‘দে’জ পাবলিশিং’-এর সুভাষ চন্দ্র দে-র মতেও চাহিদার গ্রাফ উর্ধ্বমুখী। তিনি জানান, বইয়ের জোগান বজায় রাখতে তাদের এখন নতুন করে অর্ডার দিতে হচ্ছে। শুধু সাধারণ পাঠকরাই নয়, বিভিন্ন স্কুল থেকেও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবনীগ্রন্থের চাহিদা আসছে। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে তাঁর জীবনের ওপর লেখা বই।

এই পরিবর্তনকে ‘সময়ের দাবি’ হিসেবে দেখছেন ক্রেতারাও। ব্যবসায়ী অমিত গোস্বামীর কথায়, “শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় না থাকলে পশ্চিমবঙ্গ হয়তো ভারতের অংশ হিসেবে টিকে থাকত না। তাঁর জীবন ও কর্ম সম্পর্কে আমাদের পাঠ্যপুস্তকে বিশেষ কিছু ছিল না, তাই জানার ঘাটতি ছিল। আজ সেই জানার দিন এসেছে।”

কলেজ স্ট্রিটের বিক্রেতা প্রদীপ দত্ত জানান, পুরনো ও অপ্রকাশিত বইয়ের চাহিদাও বাড়ছে। ‘শ্যামাপ্রসাদের নির্বাচিত রচনা’-র মতো দুষ্প্রাপ্য বইগুলোর খোঁজ করছেন পাঠকরা। যদি কোনো প্রকাশক এগুলো নতুন করে ছাপান, তবে তা দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন তারা।

‘মিত্র ও ঘোষ পাবলিশার্স’-এর বিক্রেতা দেব কুমার ভট্টাচার্যের পর্যবেক্ষণ, তথাগত রায়ের ‘ভারত কেশরী যুগপুরুষ শ্যামাপ্রসাদ’ এবং উমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ‘শ্যামাপ্রসাদের ডায়েরি ও মৃত্যু প্রসঙ্গ’—বই দুটি সারা বছরই চলে, কিন্তু এখন বিক্রির হার বহুগুণ বেড়েছে। বাংলার মানুষ এখন সেই মহান ব্যক্তিত্বের কর্মময় জীবনকে নতুন করে আবিষ্কার করতে চাইছে, যা এতদিন অনেক ক্ষেত্রে আলোচনার বাইরেই ছিল। সব মিলিয়ে, কলেজ স্ট্রিটের এই বইয়ের বাজার এখন যেন নতুন করে শ্যামাপ্রসাদ চর্চার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।