প্রাক-বর্ষার প্রস্তুতি ফক্কিকার? অতিভারী বৃষ্টিতে জলের তলায় মুম্বই, তীব্র ক্ষোভ বাসিন্দাদের

মুম্বইয়ে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে ভ্যাপসা গরম থেকে সাময়িক স্বস্তি মিললেও, বর্ষার প্রথম ধাপেই শহরের পরিকাঠামোর নগ্ন চেহারা সামনে এল। এশিয়ানেট নিউজ বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটানা বর্ষণে মুম্বইয়ের জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এভারার্ড নগরের কাছে সায়ন সাবওয়েতে হাঁটুজল জমে যাওয়ায় নিত্যযাত্রীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। একই চিত্র আন্ধেরি সাবওয়েতেও। সেখানে জলস্তর তিন থেকে চার ফুট পর্যন্ত উঠে যাওয়ায় কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তার খাতিরে রাস্তাটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে এবং চালকদের বিকল্প হিসেবে গোখলে ব্রিজ ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
শহরজুড়ে নিকাশি ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ মানুষ। বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভান্ডুপসহ শহরের নিচু এলাকাগুলোতে বৃষ্টি শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই জল জমতে শুরু করে। নর্দমা উপচে রাস্তায় নোংরা জল চলে আসায় তীব্র দুর্গন্ধ এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। পুরসভার প্রাক-বর্ষা প্রস্তুতির দাবি যে কার্যত খাতায়-কলমেই সীমাবদ্ধ, তা এই জলজমা থেকেই স্পষ্ট।
শহরের পাশাপাশি মুম্বইয়ের উপকণ্ঠ ভিওয়ান্ডি ও তার গ্রামীণ এলাকায় ২৩ জুন রাত থেকে হওয়া টানা বৃষ্টিতে বিদ্যুৎ পরিষেবা ভেঙে পড়েছে। কাওয়াড় ও দুমাদাপাড়ার মতো গ্রামগুলিতে প্রায় ১৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিল না বলে বাসিন্দারা জানিয়েছেন। দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎহীন থাকায় মোবাইল চার্জ দেওয়া থেকে শুরু করে পানীয় জল সংগ্রহ—সবকিছুতেই স্থবিরতা নেমে আসে। বিদ্যুৎ দফতরের কর্মীরা পরিষেবা স্বাভাবিক করার আপ্রাণ চেষ্টা করলেও, দীর্ঘসময়ের বিদ্যুৎ বিভ্রাট সাধারণ মানুষকে হতাশ করেছে।
এই পরিস্থিতির জন্য প্রশাসনের গাফিলতিকেই দায়ী করছেন স্থানীয়রা। প্রাক্তন কর্পোরেটর ক্যাপ্টেন মালিক জানিয়েছেন, ওয়ার্ড নম্বর ১৭০-এর সাবওয়ের বেহাল দশা নিয়ে মে ২০২৬-এই মেয়র রিতু তাওড়েকে লিখিত সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল। জলের লিকেজ এবং কাঠামোগত ত্রুটির কথা উল্লেখ করা সত্ত্বেও মেরামতির কাজ না হওয়ায় বর্ষায় এই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের। হাসপাতালগামী রোগী, ছাত্রছাত্রী এবং প্রবীণ নাগরিকদের যাতায়াতের কথা ভেবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করা হলেও, তা কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ। সব মিলিয়ে, অতিবৃষ্টি যেন মুম্বইয়ের পরিকাঠামোর কাছে এক বড় পরীক্ষা, যাতে প্রশাসনের প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। জল বের করতে আপৎকালীন দল নামানো হলেও, বর্ষার চিরচেনা ভোগান্তির হাত থেকে মুক্তি মিলছে না বাণিজ্যনগরীর বাসিন্দাদের।