পারমাণবিক বোমা নয়, তবে ইউরেনিয়াম ছাড় নয়! ট্রাম্পের সাথে আলোচনার আগে হুঙ্কার দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝে এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। আগামী রবিবার সুইজারল্যান্ডে দুদেশের মধ্যে শুরু হতে যাওয়া হাই-ভোল্টেজ আলোচনার আগে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো পরিকল্পনা তেহরানের নেই, তবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের জাতীয় অধিকার থেকে ইরান এক চুলও নড়বে না।

কী বললেন পেজেশকিয়ান? ইরানের রাষ্ট্রপতির দাপ্তরিক ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতি অনুযায়ী, পেজেশকিয়ান বলেন, “আমেরিকা চায় আমরা যেন পারমাণবিক বোমা তৈরি না করি—এটি নতুন কোনো দাবি নয়। আমরা লিখিতভাবেই প্রতিশ্রুতি দিতে রাজি যে, আমাদের পারমাণবিক বোমা তৈরির কোনো ইচ্ছা নেই। কিন্তু, আমরা আমাদের সম্পদ বৃদ্ধির (ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ) অধিকার বিসর্জন দেব না। অপর পক্ষকে এই অধিকার মানতেই হবে।”

সুইজারল্যান্ডে আলোচনার মূল এজেন্ডা: ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, রবিবার সুইজারল্যান্ডে বসতে চলা এই আলোচনার প্রধান লক্ষ্য হলো মধ্যপ্রাচ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ বন্ধ করা। বিশেষ করে, লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার সংঘাত এবং ইসরায়েলের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের বিষয়টি আলোচনার টেবিলে প্রাধান্য পাবে।

পাশাপাশি আলোচনার টেবিলে গুরুত্ব পাচ্ছে অর্থনৈতিক বিষয়গুলোও:

  • জব্দকৃত অর্থ: কাতারে আটকে থাকা ইরানের প্রায় ৬০০ কোটি ডলারের তহবিল ছাড় করার বিষয়ে সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত।

  • তেল বাণিজ্য: ইরানের তেল বিক্রির জন্য প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়টিও আলোচনার অন্যতম প্রধান দিক।

নেতানিয়াহুর জন্য ‘হতাশার’ বার্তা? প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান কিছুটা কটাক্ষের সুরেই বলেছেন, এই সমঝোতা ও আলোচনার সাফল্য যারা দেখবে, তাদের মধ্যে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হবেন প্রথম ব্যক্তি যিনি সবচেয়ে বেশি অসন্তুষ্ট হবেন। ইরানের দাবি, এই চুক্তির প্রতিটি শর্ত তেহরানের অনুকূলেই রয়েছে এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনও শেষ পর্যন্ত ইরানের ন্যায্য দাবিগুলোকে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এই সরাসরি আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে এই সমঝোতা শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে বিশ্ব।