DA-বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি?-সরকারি কর্মীদের মুখে হাসি ফোটাবে কি সোমবারের বাজেট?

সোমবার, ২২ জুন। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নবগঠিত সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ হতে চলেছে বিধানসভায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষক থেকে শুরু করে আমজনতা—সবার নজর এখন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তের ভাষণের দিকে। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের এই বাজেটে রাজ্যের আর্থিক পুনর্গঠন, শিল্পায়ন এবং জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের রূপরেখা কেমন হয়, সেটাই দেখার বিষয়।

বাজেটের মূল আকর্ষণ: ডিএ ও সপ্তম বেতন কমিশন রাজ্য সরকারি কর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবি, কেন্দ্রীয় হারে ডিএ প্রদান। বর্তমানে কেন্দ্র ও রাজ্যের ডিএ-র ফারাক ৪২ শতাংশ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিভিন্ন জনসভায় ধাপে ধাপে এই ব্যবধান কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সেই প্রেক্ষাপটে সোমবারের বাজেটে ডিএ বৃদ্ধির কোনো বড় ঘোষণা আসে কি না, তা নিয়ে তুমুল চর্চা চলছে। এছাড়া, সম্প্রতি গঠিত ‘সপ্তম রাজ্য বেতন কমিশন’ নিয়েও বাজেটে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা আশা করছেন সরকারি কর্মচারীরা।

বাজেট থেকে রাজ্যের প্রত্যাশা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এই বাজেট মূলত সাধারণ মানুষ, যুবক এবং কৃষকদের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে। সোমবারের বাজেট থেকে যে বিষয়গুলোতে আলোকপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে:

  • কর্মসংস্থান: বেকার যুবকদের জন্য নতুন কোনো কর্মসংস্থান প্রকল্প।

  • কৃষি ও পরিকাঠামো: কৃষকদের আর্থিক উন্নয়ন এবং রাজ্যের পরিকাঠামোগত আধুনিকীকরণ।

  • শিল্পায়ন: রাজ্যে নতুন শিল্প বিনিয়োগ টানার রূপরেখা।

দিল্লি সফর ও নীতি আয়োগের সঙ্গে বৈঠক বাজেট পেশের ঠিক আগে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তের দিল্লি সফর এবং কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন ও নীতি আয়োগের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক রাজ্য রাজনীতিতে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। রাজ্যের অর্থনৈতিক অবস্থা মজবুত করতে এবং কেন্দ্রীয় অনুদান পেতে এই বৈঠকগুলি বিশেষ ভূমিকা নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সরকারি ঘোষণা নিয়ে কী বলছে নবান্ন? মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়াল ধৈর্য ধরার অনুরোধ করেছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন, সরকারিভাবে বড় ঘোষণার জন্য ২২ জুনের বাজেট পেশ পর্যন্ত অপেক্ষা করাই শ্রেয়। মুখ্যমন্ত্রী নিজেও জানিয়েছেন, এই বাজেট শুধুমাত্র সংখ্যার খেলা নয়, বরং যুবসমাজ, সরকারি কর্মচারী এবং কৃষকদের জন্য একগুচ্ছ কর্মসূচির ঘোষণা থাকবে।

সোমবার দুপুর ১২টায় বিধানসভায় পেশ হবে এই বছরের গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক বিবৃতি। এখন দেখার, শুভেন্দু সরকারের প্রথম বাজেট রাজ্যের আমজনতার চাহিদা মেটাতে কতটা সফল হয়।