উত্তরাখণ্ডে ফের উত্তেজনা: গুরুদ্বারের ছাদে সশস্ত্র নিহঙ্গদের দাপট, নামল পুলিশ ও ITBP!

উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলায় ফের মাথাচাড়া দিয়েছে উত্তেজনার পরিস্থিতি। কর্ণপ্রয়াগে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে নিহঙ্গ তীর্থযাত্রীদের বিবাদের রেশ কাটতে না কাটতেই, শনিবার রুদ্রপ্রয়াগের নাগরাসু এলাকায় একটি গুরুদ্বারের ছাদে সশস্ত্র নিহঙ্গ ভক্তদের অবস্থান ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে: শনিবার নাগরাসুতে একটি গুরুদ্বারের ছাদে কয়েকজন নিহঙ্গ ভক্তকে তাদের ঐতিহ্যবাহী অস্ত্র হাতে দেখা যায়। আচমকা এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও হট্টগোল শুরু হয়। খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় স্থানীয় পুলিশ এবং ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশ (ITBP)-এর বিশেষ দল। নিরাপত্তা বাহিনীর দীর্ঘ আলোচনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং নিহঙ্গদের শান্তিপূর্ণভাবে ছাদ থেকে নিচে নামিয়ে আনা হয়।
কর্ণপ্রয়াগে ১৬৩ ধারা জারি: গত ১৬ জুন কর্ণপ্রয়াগে নিহঙ্গ ও স্থানীয়দের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে চামোলি জেলা প্রশাসন কর্ণপ্রয়াগ এলাকায় বিএনএসএস-এর ১৬৩ ধারা (আগের ১৪৪ ধারার সমতুল্য) জারি করেছে। প্রশাসনিক নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ২৭ জুন পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ বলবৎ থাকবে। এলাকায় বিভিন্ন সংগঠনের ডাকা পদযাত্রাকে কেন্দ্র করেই প্রশাসন এই আগাম সতর্কতা অবলম্বন করেছে।
প্রশাসনের কড়া নজরদারি: পুরো বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা। তাদের মতে, এলাকা এখন শান্ত রয়েছে এবং কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় চাপা উত্তেজনা রয়েছে। সংবেদনশীল পরিস্থিতির কারণে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীকে হাই অ্যালার্টে রাখা হয়েছে।
সাধারণ মানুষকে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন। বিশেষ করে কোনো ধরনের গুজবে কান না দেওয়ার জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের অনুরোধ করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে গুরুদ্বার চত্বর ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে।