তৃণমূলের অন্দরে আর্থিক বিতর্ক: ৪ বছরে চার্টার্ড ফ্লাইটে ১৪১ কোটি খরচের অভিযোগ অভিষেক ব্যানার্জীর বিরুদ্ধে

বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে অস্থিরতা চরমে। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন একাংশ। এই পরিস্থিতির মধ্যেই দলের আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং তহবিলের ব্যবহার নিয়ে নতুন করে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। সূত্রের খবর, গত চার বছরে তৃণমূল কংগ্রেস চার্টার্ড ফ্লাইটের পেছনে প্রায় ১৪১ কোটি টাকা খরচ করেছে, যার সিংহভাগই ব্যয় হয়েছে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জীর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সফরের জন্য।

বিদ্রোহীদের অভিযোগ: বিদ্রোহী গোষ্ঠীর দাবি, দলের এই বিপুল পরিমাণ অর্থ চার্টার্ড ফ্লাইটে ব্যয় করা অত্যন্ত অনৈতিক। একটি ফ্লাইটের জন্য প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা খরচ করার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। অথচ, যেখানে সাধারণ বিজনেস ক্লাসের ভাড়া ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে হয়, সেখানে এত বিপুল অর্থ কেন ব্যয় করা হলো, তা নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিদ্রোহীদের মতে, পরাজয়ের দায় এড়িয়ে অভিষেকের এই ‘বিলাসবহুল’ সফর তৃণমূলের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে।

আর্থিক সংকটের মুখে দল: দলীয় সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেসের প্রায় ৪৪০ কোটি টাকার একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট জব্দ করা হয়েছে। এই অবস্থায় দলের তহবিল ও আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিদ্রোহী সাংসদ ও কর্মীরা। নিরীক্ষা বা অডিট রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশের যেকোনো আঞ্চলিক দলের তুলনায় চার্টার্ড ফ্লাইটের পেছনে তৃণমূলের এই রেকর্ড পরিমাণ ব্যয় রাজনৈতিক মহলে বড়সড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

নেতৃত্বের ওপর চাপ: পরাজয়ের পর থেকে মমতা ব্যানার্জী এবং অভিষেক ব্যানার্জীর নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একদিকে যখন দলের ভেতরে ‘আসল তৃণমূল’-এর দাবি উঠছে, অন্যদিকে তখন এই আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। নির্বাচনোত্তর বাংলায় তৃণমূলের এই টালমাটাল অবস্থা আগামী দিনে কোন পথে গড়ায়, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বিশেষ নজর রাখছেন।