দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেলারে সজোরে ধাক্কা সরকারি বাসের, উত্তরবঙ্গের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনায় মৃত ৪!

রবিবার সকালের শান্ত আবহাওয়া নিমেষের মধ্যে পরিণত হলো এক মর্মান্তিক মৃত্যুমিছিলে। উত্তরবঙ্গের ব্যস্ততম ২৭ নম্বর জাতীয় সড়কে শিলিগুড়ি থেকে কোচবিহারগামী উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থার (এনবিএসটিসি) একটি যাত্রীবোঝাই বাসের ভয়াবহ দুর্ঘটনায় রক্তাক্ত হলো জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়ির উল্লাডাবরি এলাকা। এদিন সকালে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রেলারের পিছনে বাসটি সজোরে ধাক্কা মারলে ঘটনাস্থলেই তৈরি হয় এক ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি। এই দুর্ঘটনায় অন্তত ৫৭ জন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন, যার মধ্যে হাসপাতালের চিকিৎসাধীন ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে সরকারিভাবে জানানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, বাসটি তিস্তা সেতু অতিক্রম করার পরেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রেলারের পিছনের অংশে আছড়ে পড়ে। ধাক্কার তীব্রতা এতটাই প্রবল ছিল যে, বাসের সামনের অংশটি দুমড়ে-মুচড়ে ট্রেলারের পিছনের কাঠামোর ভেতরে ঢুকে যায়। বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে এলাকা। মুহূর্তের মধ্যে বাসের ভেতর থেকে ভেসে আসে আর্তনাদ ও কান্নার রোল। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আটকে পড়েন সামনের সারির বহু যাত্রী।
স্থানীয় বাসিন্দারা শব্দ শুনেই উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। পরে ময়নাগুড়ি থানার পুলিশ, দমকল বাহিনী এবং অ্যাম্বুলেন্স দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বাসের বডি কেটে দীর্ঘক্ষণের চেষ্টায় আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধার করা হয়। আহত ৫৭ জনকে তড়িঘড়ি জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল ও ময়নাগুড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মৃতদের মধ্যে সজল সরকার নামে এক ব্যক্তির পরিচয় মিলেছে, বাকিদের পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। আহতদের অনেকেরই অবস্থা আশঙ্কাজনক, চিকিৎসকরা তাঁদের শারীরিক অবস্থার ওপর কড়া নজর রাখছেন।
জলপাইগুড়ির পুলিশ সুপার সুজাতা কুমারি বীণাপানি জানান, ঘটনার তীব্রতা এবং আহতদের সংখ্যার কথা মাথায় রেখে উদ্ধারকাজ চালানো হয়েছে। ময়নাগুড়ি থানার আইসি সুবল চন্দ্র ঘোষ জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে, বাসের চালক সম্ভবত নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিলেন অথবা ট্রেলারটি রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকার সময় কোনো সংকেত ছিল না। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই দুর্ঘটনাগ্রস্ত বাস ও ট্রেলারটিকে ক্রেন দিয়ে সরিয়ে জাতীয় সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করার কাজ শেষ করেছে।
উত্তরবঙ্গের অন্যতম ব্যস্ত এই জাতীয় সড়কে ফের এমন এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা ফের একবার যাত্রীসুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিল। চালকের গাফিলতি ছিল কি না বা বাসের যান্ত্রিক কোনো ত্রুটি ছিল, তা ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করতে চাইছে পুলিশ প্রশাসন। শোকের আবহে এখন পুরো জলপাইগুড়ি জেলা জুড়ে চলছে শোক ও উদ্বেগের প্রহর।