পলাতক সুমিত রায়! অভিষেকের বাড়িতে হানা দিয়েও খালি হাতে ফিরল পুলিশ, জারি লুক আউট নোটিস

পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতির অন্দরমহলে ফের জোরালো শোরগোল। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে এবার পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরা থানায় দায়ের হলো চাকরির বিনিময়ে টাকা নেওয়ার চাঞ্চল্যকর প্রতারণার মামলা। প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরার সঙ্গে নাম জড়িয়েছে সুমিতের। শুধু চাকরি প্রতারণা নয়, সুমিতের বিরুদ্ধে উঠেছে কোটি কোটি টাকার জমি জালিয়াতির গুরুতর অভিযোগ। মেদিনীপুরে ভুয়ো নথির মাধ্যমে প্রায় ৩০০ একর খাস জমি এবং উদ্বাস্তু কলোনির জমি দখলের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সর্বত্র।
ইতিমধ্যেই এই মামলায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। সূত্র মারফত খবর, গ্রেফতারি এড়াতে সুমিত রায় আগাম জামিনের আবেদন জানালেও, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তাঁর খোঁজে চলছে সাঁড়াশি অভিযান। শালবনী থানায় দায়ের হওয়া একটি পুরনো মামলায় প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরাকে জেরা করে সুমিতের নাম উঠে আসে। সেই মামলার সূত্র ধরেই সুমিতের বিরুদ্ধে জারি করা হয়েছে গ্রেফতারি পরোয়ানা এবং লুক আউট নোটিস।
পুলিশের তৎপরতা তুঙ্গে। কিছুদিন আগেই সুমিতের সন্ধানে অভিষেকের কালীঘাটের বাড়িতে হানা দিয়েছিল শালবনী থানার পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর তালা ভেঙে তল্লাশি চালানো হলেও সুমিতের দেখা মেলেনি। সূত্রের দাবি, সুমিতের মোবাইলের সর্বশেষ টাওয়ার লোকেশন মিলেছিল অভিষেকের বাসভবন থেকেই। কালীঘাটের পাশাপাশি হুগলির শ্রীরামপুরে সুমিতের শ্বশুরবাড়িতেও হানা দেয় পুলিশ, কিন্তু সেখানেও অধরা থেকে যান তিনি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, অভিষেকের আপ্তসহায়কের বিরুদ্ধে এই ধরনের একের পর এক অভিযোগে অস্বস্তিতে পড়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব। চাকরি বিক্রি থেকে শুরু করে জমি কেলেঙ্কারি—অভিযোগের তালিকা যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই প্রশ্ন উঠছে সুমিতের ‘গা ঢাকা’ দেওয়া নিয়ে। তদন্তকারী আধিকারিকরা মনে করছেন, সুমিতকে পাকড়াও করা গেলে এই বিশাল জালিয়াতি চক্রের আরও অনেক রহস্য উন্মোচিত হবে। সব মিলিয়ে, পুলিশের নজরবন্দি হয়েও সুমিত রায়ের এই দীর্ঘ আত্মগোপন রহস্যের পারদ আরও চড়িয়েছে।