হরমুজ় প্রণালীতে কি এবার মার্কিন ‘টোল ট্যাক্স’? ট্রাম্পের নতুন হুমকিতে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ!

আন্তর্জাতিক কূটনীতির জটিল গোলকধাঁধায় ফের একবার শিরোনামে উঠে এসেছে হরমুজ় প্রণালী। একদিকে পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা, অন্যদিকে ইরানের আচমকা জাহাজ চলাচল স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত—সব মিলিয়ে বিশ্বজুড়ে ফের জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বর্তমান যুদ্ধবিরতির সময়ে হরমুজ় প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে কোনো অতিরিক্ত শুল্ক বা ‘টোল’ বসানো হবে না। কিন্তু এখানেই শেষ নয়, ট্রাম্প কার্যত একপ্রকার হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিয়েছেন, যদি পশ্চিম এশিয়ায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার আলোচনা ব্যর্থ হয়, তবে ওই অঞ্চলে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ‘খরচ’ হিসেবে আমেরিকা নতুন আর্থিক ব্যবস্থা বা টোল ট্যাক্স চালুর বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে। ট্রাম্পের এই বার্তা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে জল্পনার জন্ম দিয়েছে।

প্রেসিডেন্টের এই বার্তার পাশাপাশি, ইরানের সামরিক কর্তৃপক্ষের এক সাম্প্রতিক বিবৃতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইজ়রায়েলের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলার অভিযোগ ওঠায় ইরান দাবি করেছে যে, আঞ্চলিক সুরক্ষার কথা মাথায় রেখেই তারা হরমুজ় প্রণালীতে জাহাজ চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করার ‘প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ’ নিয়েছে। যদিও ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে সব পক্ষ সম্মতি জানিয়েছিল, কিন্তু সীমান্তবর্তী সংঘর্ষের ফলে সেই শান্তিপ্রক্রিয়া এখন এক বড় প্রশ্নের মুখে।

হরমুজ় প্রণালী বিশ্বের জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান ধমনী। প্রতিদিন বিশ্বের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস এই পথেই পরিবাহিত হয়। ফলে ইরানের এই নিষেধাজ্ঞা বা ট্রাম্পের সম্ভাব্য ‘আর্থিক শর্ত’ আরোপের সম্ভাবনা আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ও সরবরাহ চেইনকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। এই পরিস্থিতিতে সুইৎজ়ারল্যান্ডে মার্কিন এবং ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, একদিকে আলোচনার টেবিলে সমঝোতার চেষ্টা চললেও, বাস্তব ক্ষেত্রে হরমুজ় প্রণালীকে কেন্দ্র করে এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান জ্বালানি বাজারে এক গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকেই ইরানকে কেন্দ্র করে পশ্চিম এশিয়ায় অস্থিরতা শুরু হয়েছিল। আমেরিকা ওই অঞ্চলে নিরাপত্তা বাড়িয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চালালেও, সাম্প্রতিক ঘটনাবলি প্রমাণ করছে যে শান্তি প্রক্রিয়াটি কতটা ভঙ্গুর। ট্রাম্পের ‘গার্জিয়ান অ্যাঞ্জেল’ পরিকল্পনা এবং ইরানের ‘প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ’—এই দুই মেরুর অবস্থানে বিশ্ব অর্থনীতি কোনো দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।