সোমবার থেকে অম্বুবাচী, কেন ৩ দিন বন্ধ থাকে সব শুভ কাজ? জেনে নিন নিয়মাবলী!

হিন্দু ধর্মে অম্বুবাচী এক অত্যন্ত পবিত্র ও গুরুত্বপূর্ণ বাৎসরিক উৎসব। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, আষাঢ় মাসে মৃগশিরা নক্ষত্রের তিনটি পদ শেষ হলে ধরিত্রী মাতা ঋতুমতী বা রজঃস্বলা হন। এই বিশেষ সময়টিই ‘অম্বুবাচী’ বা ‘অমাবতী’ হিসেবে পালিত হয়।

অম্বুবাচী ২০২৬-এর নির্ঘণ্ট: চলতি বছরে অম্বুবাচীর প্রবৃত্তি এবং নিবৃত্তির সময় নিচে দেওয়া হলো:

  • অম্বুবাচী প্রবৃত্তি (শুরু): ২২ জুন, ২০২৬ (সোমবার) — রাত ৭টা ৩৮ মিনিট।

  • অম্বুবাচী নিবৃত্তি (শেষ): ২৬ জুন, ২০২৬ (শুক্রবার) — রাত ১০টা ৫৭ মিনিট।

কামাক্ষ্যা মন্দির ও অম্বুবাচীর মাহাত্ম্য: তন্ত্র সাধনার অন্যতম পীঠস্থান কামাক্ষ্যা মন্দিরে অম্বুবাচীর সময় বিশেষ উৎসব পালিত হয়। কালিকা পুরাণ অনুযায়ী, কামাক্ষ্যা মহাশক্তির অংশ। এই পবিত্র সময়ে দেশ-বিদেশ থেকে হাজার হাজার ভক্ত কামাক্ষ্যা মন্দিরে ভিড় জমান। এই উৎসব চলাকালীন মন্দিরের গর্ভগৃহের দেবীমূর্তিকে কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। শুধু কামাক্ষ্যা নয়, অম্বুবাচী চলাকালীন দেশের বিভিন্ন মন্দির এবং গৃহস্থের ঠাকুরঘরেও মাতৃমূর্তিকে একইভাবে ঢেকে রাখা হয়।

অম্বুবাচীর নিয়ম ও বিধিনিষেধ: অম্বুবাচীর এই তিন দিন ধরিত্রী মা ‘অশুচি’ অবস্থায় থাকেন বলে মনে করা হয়। তাই এই সময়ে কিছু বিশেষ নিয়ম মেনে চলেন ভক্তরা:

  • নিরামিষ আহার ও রান্নাবান্না: এই তিন দিন ব্রহ্মচারী, সন্ন্যাসী এবং বিধবা মহিলারা আগুনের রান্না করা খাবার খান না। এই সময় মূলত ফলমূল খেয়ে ব্রত পালন করা হয়।

  • শুভ কাজ নিষিদ্ধ: অম্বুবাচীর এই কদিন যেকোনো ধরনের মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান, গৃহপ্রবেশ, অন্নপ্রাশন বা শুভ কাজ থেকে বিরত থাকেন ধর্মপ্রাণ হিন্দুরা।

  • কৃষিকাজ: ধরিত্রীকে বিশ্রাম দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই তিন দিন কৃষিকাজ বা মাটি খননের কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়।

  • পরিচ্ছন্নতা: তিন দিন অম্বুবাচী পালনের পর, চতুর্থ দিন স্নান করে ঘরদোর পরিষ্কার ও জামাকাপড় ধুয়ে পবিত্র হওয়ার বিধান রয়েছে।

অম্বুবাচী শুধুমাত্র একটি উৎসব নয়, এটি প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের এক নিবিড় সংযোগের প্রতিফলন। ধরিত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর এই সময় আমাদের শেখায় প্রকৃতির নিয়মকে সম্মান করতে।