বেঙ্গালুরুতে ভাড়ার নামে ‘লুট’! ৪০ হাজার ভাড়ার ফ্ল্যাটে আড়াই লাখ টাকা দাবি, ক্ষুব্ধ নেটপাড়া

ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি রাজধানী বেঙ্গালুরুতে বাড়ি ভাড়ার সংকট নতুন কিছু নয়। কিন্তু সম্প্রতি এক যুবকের অভিজ্ঞতা এই শহরজুড়ে বাড়ি ভাড়ার আকাশছোঁয়া ও স্বেচ্ছাচারী নিয়মগুলোকে ফের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। মাসিক ৪০,০০০ টাকা ভাড়ার ফ্ল্যাটের জন্য ২.৪ লক্ষ টাকা সিকিউরিটি ডিপোজিট চাওয়ার বিষয়টি নিয়ে এখন সরব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম।

ঘটনাটি কী? সম্প্রতি পরিতোষ শর্মা নামে এক ব্যবহারকারী ‘X’ (সাবেক টুইটার)-এ তাঁর এক বন্ধুর অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, বেঙ্গালুরুতে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেওয়ার সময় মালিক তাঁর বন্ধুর কাছে মাসিক ৪০,০০০ টাকা ভাড়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত ৪০,০০০ টাকা ব্রোকারেজ এবং ৬ মাসের ভাড়ার সমান ২,৪০,০০০ টাকা সিকিউরিটি ডিপোজিট দাবি করেছেন।

কেন এই ক্ষোভ? পরিতোষের প্রশ্ন, বাড়ির মালিকদের এই ৬ মাসের অগ্রিম চাওয়ার পেছনে যুক্তিটা ঠিক কী? দেশের অন্যান্য বড় শহরের তুলনায় বেঙ্গালুরুতে এই প্রথা একেবারেই অমানবিক বলে মনে করছেন তিনি। অধিকাংশ ক্ষেত্রে অভিযোগ ওঠে যে, বাড়ি ছাড়ার সময় মালিকেরা নানা অজুহাতে সিকিউরিটি ডিপোজিটের পুরো টাকা ফেরত দিতে চান না। এই অনিশ্চয়তা এবং মোটা অঙ্কের প্রাথমিক বিনিয়োগ ভাড়াটিয়াদের জন্য রীতিমতো মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নেটপাড়ার মিশ্র প্রতিক্রিয়া পোস্টটি ভাইরাল হতেই হাজারো মানুষ নিজেদের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন। অনেকে অবাক হয়ে লিখেছেন, বেঙ্গালুরুতে ৬ মাসের ডিপোজিট তো তাও কম! অনেক ক্ষেত্রে মালিকেরা ১০ থেকে ১১ মাসের ভাড়ার সমপরিমাণ অগ্রিম দাবি করে বসেন। কেউ কেউ আবার প্রশ্ন তুলেছেন, সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো মাসের পর মাস এত বড় অঙ্কের টাকা ডিপোজিট হিসেবে দিয়ে কীভাবে বাসা ভাড়া নেবে?

ভাড়াটিয়াদের সুরক্ষায় কী প্রয়োজন? বেঙ্গালুরুর আবাসন বাজারে কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায় বাড়ির মালিকেরা প্রায়শই নিজেদের ইচ্ছেমতো শর্ত চাপিয়ে দেন। ক্রমবর্ধমান চাহিদা ও সাপ্লাইয়ের অসামঞ্জস্যতাকে পুঁজি করে এই ধরনের ‘লুট’-এর বিরুদ্ধে আইনি সুরক্ষার দাবি তুলেছেন সচেতন নেটিজেনরা।