রাস্তায় হাঁটলেই ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যান! পুলিশের নতুন অ্যাপ ‘অভিজ্ঞান’ ঘিরে তুঙ্গে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার আতঙ্ক

অপরাধীদের শনাক্তকরণে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ উদ্বোধন করলেন ‘অভিজ্ঞান’ (Abhigyan) নামে একটি নতুন মোবাইল অ্যাপ। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো (NCRB)-এর তৈরি এই অ্যাপটি পুলিশি তল্লাশিতে বিপ্লব ঘটাবে বলে দাবি করা হলেও, সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মানবাধিকার নিয়ে তৈরি হয়েছে প্রবল শঙ্কা।
কীভাবে কাজ করবে ‘অভিজ্ঞান’? এই অ্যাপটি সরাসরি ন্যাশনাল অটোমেটেড ফিঙ্গারপ্রিন্ট আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম (NAFIS)-এর ডেটাবেসের সাথে যুক্ত। পুলিশ আধিকারিকরা এখন থেকে রাস্তায় নাকা চেকিং বা রুটিন তল্লাশির সময় পোর্টেবল স্ক্যানারের মাধ্যমে যেকোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তির আঙুলের ছাপ স্ক্যান করতে পারবেন। অ্যাপের প্রযুক্তি অনুযায়ী, মাত্র ৩৫ সেকেন্ডের মধ্যে ওই ব্যক্তির অপরাধের ইতিহাস ও তথ্যভাণ্ডারের সাথে মিল আছে কি না, তা যাচাই করে নেওয়া সম্ভব হবে। বর্তমানে এই ডেটাবেসে প্রায় ১.৩ কোটি অপরাধী ও বিচারাধীন বন্দির তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে।
বিতর্কের মূলে কী? অ্যাপটির উদ্বোধন নিয়ে একদিকে যেমন পুলিশি ব্যবস্থার আধুনিকীকরণের প্রশংসা শোনা যাচ্ছে, অন্যদিকে তেমনই শুরু হয়েছে আইনি ও নৈতিক বিতর্ক। ২০২২ সালের ‘ক্রিমিনাল প্রসিডিওর আইডেন্টিফিকেশন অ্যাক্ট’-এর ৩ নম্বর ধারা অনুযায়ী, শুধুমাত্র দোষী সাব্যস্ত বা গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের তথ্যই সংগ্রহ করা আইনসম্মত। কিন্তু মানবাধিকার কর্মীদের প্রশ্ন, কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া রাস্তায় যথেচ্ছভাবে সাধারণ মানুষের আঙুলের ছাপ স্ক্যান করলে তা ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার ক্ষুণ্ণ করবে না কি?
আতঙ্কের কারণ: আইনজীবীদের একাংশের মতে, আইনের রক্ষাকবচ ছাড়া সাধারণ নাগরিকদের বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহের অধিকার পুলিশের নেই। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এই প্রযুক্তির যথেচ্ছ ব্যবহার মাঠপর্যায়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানির শিকার করতে পারে। অ্যাপটির ব্যবহারিক সীমা এবং আইনি বৈধতা নিয়ে তাই বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে মাঠপর্যায়ে পুলিশিং ব্যবস্থা দ্রুত ও কার্যকরী করার কথা বলা হলেও, ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার রক্ষার প্রশ্নটি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।