কুণালের মন্তব্যেও সংযত অভিষেক! চার্টার্ড ফ্লাইট বিতর্কে বললেন, “সহকর্মী আমার বিরুদ্ধে বললে আমি বলব না”

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে আর্থিক লেনদেন ও চার্টার্ড ফ্লাইট ব্যবহারের বিতর্ক এখন নতুন উচ্চতায়। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের তোলা ‘কাটমানি’ বা ‘তোলাবাজির’ টাকার সন্দেহ এবং সেই টাকাতেই চার্টার্ড বিমানের ভাড়া মেটানোর অভিযোগের পরেই কুণাল ঘোষের বিস্ফোরক মন্তব্য তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বকে আরও স্পষ্ট করে দিল। দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠকে এই বিষয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েও দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখার বার্তা দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

কী বললেন কুণাল ঘোষ? দলের আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে সরব হয়ে কুণাল ঘোষ বলেন, “অভিষেক চার্টার্ড ফ্লাইটে গিয়েছেন কি না, তা আমার জানা নেই। তবে যদি পার্টির খরচে ব্যক্তিগত বিমানে কেউ ভ্রমণ করে থাকেন, তবে আমি সেটা কোনোভাবেই সমর্থন করতে পারি না।” কুণালের এই মন্তব্যকে অভিষেকের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক মহল।

অভিষেকের পাল্টা কৌশলী জবাব: দিল্লিতে এই প্রশ্নের সম্মুখীন হয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত সংযত গলায় বলেন, “যাঁরা আমার ভ্রমণ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তাঁরা যদি লিখিত দেন যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ইকোনমি ক্লাসেই যাতায়াত করতে হবে, তবে আমি তা মেনে নিতে পারি। আমার পাশে সাধারণ যাত্রী বসেছেন, এমন অভিজ্ঞতাও আমার হয়েছে।” এরপরই সহকর্মী কুণাল ঘোষ সম্পর্কে তিনি যোগ করেন, “কুণাল আমার সহকর্মী। তিনি আমার বিরুদ্ধে কোনো কথা বললে আমি পালটা তাঁর বিরুদ্ধে কোনো কটু কথা বলব না।”

বিতর্কের প্রেক্ষাপট: দলের তহবিল নিয়ে ধোঁয়াশা দীর্ঘদিনের। গত ১২ জুন অরূপ বিশ্বাস তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার দাবি জানালেও তা গৃহীত হয়নি। পরবর্তীতে কোষাধ্যক্ষ বদল করা হয়। ঋতব্রতপন্থী বিধায়করা বিধাননগর পুলিশে অভিযোগ দায়ের করে দাবি করেছেন যে, দলের তহবিলের টাকা নয়ছয় করে চার্টার্ড ফ্লাইটের মতো বিলাসবহুল যাতায়াত খরচ মেটানো হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কালীঘাটের বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনে কুণাল-অভিষেকের যে বাদানুবাদ শুরু হয়েছিল, আজ তা কুণালের সাম্প্রতিক মন্তব্যে আরও প্রকট হলো। কুণালের এই অবস্থানে স্পষ্ট যে দলের অন্দরে অভিষেক-বিরোধী লবির প্রভাব ক্রমশ বাড়ছে। একদিকে সাংসদ পদ খারিজের দাবি এবং অন্যদিকে বিমানের ভাড়া নিয়ে বিতর্ক—সব মিলিয়ে তৃণমূলের অন্দরের অস্থিরতা এখন চরম পর্যায়ে।