‘আমার বিরুদ্ধে মামলা করুন!’ বিদ্রোহী সাংসদদের সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে স্পিকারের বৈঠকের পর গর্জে উঠলেন অভিষেক

লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লার সঙ্গে বৈঠকের পর নয়াদিল্লিতে দাঁড়িয়ে বিদ্রোহী সাংসদদের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের বিদ্রোহী ২০ জন সাংসদকে তীব্র আক্রমণ করে অভিষেক বলেন, “তাঁরা তাঁদের বিবেক, সম্মান এবং সততা বিক্রি করে দিয়েছেন। বাংলার মানুষ কখনোই এই বিশ্বাসঘাতকতা ক্ষমা করবে না।”

কী বললেন অভিষেক? সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, বিদ্রোহী সাংসদদের মধ্যে অনেকেই কেন্দ্রীয় এজেন্সির (ইডি-সিবিআই) তদন্তের ভয়ে নিজেদের বাঁচাতে দল ছাড়ছেন। তিনি বলেন, “কাউকে টাকা দিয়ে কেনা হচ্ছে, কাউকে আবার ভয় দেখিয়ে দলে ভাঙন ধরানো হচ্ছে। আমার কাছে এই সংক্রান্ত কংক্রিট প্রমাণ রয়েছে।”

আক্রমণের সুর আরও চড়িয়ে তিনি বলেন, “যদি কোনো সাংসদ মনে করেন যে আমার মন্তব্যে তাঁদের অপমান হয়েছে, তাহলে তাঁরা আমার বিরুদ্ধে মামলা করুন। আমি আদালতে গিয়ে সব প্রমাণ করে দেব।” তাঁর মতে, এই সাংসদরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েও ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধি ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তার লোভে সাধারণ মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।

দলের অন্দরের টানাপোড়েন: দলের একাংশের মতে, অভিষেকের এই আক্রমণাত্মক অবস্থান দলের অভ্যন্তরীণ ঐক্য পুনরুদ্ধারের একটি মরিয়া চেষ্টা। অন্যদিকে, বিদ্রোহী সাংসদদের দাবি, দলের অন্দরে স্বচ্ছতার অভাব এবং একাধিপত্যের কারণেই তাঁরা এই পথে হাঁটতে বাধ্য হয়েছেন।

পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ: এদিকে লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লার সঙ্গে বৈঠকের বিস্তারিত বিষয়বস্তু প্রকাশ্যে না এলেও, দলীয় সূত্রে খবর, বিদ্রোহী সাংসদদের সংসদীয় আচরণের প্রসঙ্গই এই বৈঠকের মূল আলোচনার বিষয় ছিল। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির চাপ, দলের অন্দরে সাংগঠনিক অসন্তোষ এবং সাংসদদের দলবদলের এই মহাকাব্যিক লড়াই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিকে এক নজিরবিহীন উত্তেজনার মুখে দাঁড় করিয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অভিষেকের এই চ্যালেঞ্জ এবং আইনি হুঁশিয়ারি তৃণমূলের সংসদীয় শক্তির ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এখন দেখার, বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে এই লড়াই শেষ পর্যন্ত কোন মোড় নেয় এবং আদালতে প্রমাণ দাখিলের বিষয়টি কতদূর গড়ায়।